শিরোনাম

রাজশাহী, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): রাজশাহী সিল্কের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং রেশম সুতার আমদানি কমাতে এই শিল্পের আধুনিকায়নে সরকার মাঠপর্যায়ে সমন্বিত কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।
আজ (শনিবার) সকালে রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহী সিল্ক কেবল একটি শিল্প নয়; এটি বাংলাদেশের সম্পদ ও গৌরবের প্রতীক। বর্তমানে দেশে বার্ষিক রেশমের চাহিদা ৪০০ থেকে ৪৫০ মেট্রিক টন হলেও এর প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। স্থানীয় কারখানাগুলো বন্ধ থাকা বা পিছিয়ে পড়ার কারণেই এই পরনির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে।
এই সংকট কাটাতে সরকার এখন উন্নতমানের পলু চাষ, তুঁত গাছের উন্নয়ন এবং রেশম সুতার মান বাড়াতে গবেষণার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে রেশম বোর্ড স্থাপন করেছিলেন; তার মূল লক্ষ্য অর্জনে বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা এবং সিল্কের প্রসারে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চীন ও জাপানের বাজারে দেশীয় সিল্ক পণ্যের উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী রেশম শিল্পের কারিগর বা ‘বোসনি’দের সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ জন বোসনি রয়েছেন; কিন্তু বয়সের কারণে তাদের সংখ্যা ক্রমেই কমছে। নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই পেশায় যুক্ত করা না গেলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই পরবর্তী প্রজন্মকে এই পেশায় যুক্ত করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার।
এ সময়, সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী (ঈশা) এবং জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।