শিরোনাম

সংসদ ভবন, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও গুড গভর্নেন্স- এই তিনটি বিষয়কে বিএনপির সুপ্রতিষ্ঠিত দলীয় নীতি হিসেবে উল্লেখ করে 'ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬' সংসদে উত্থাপনের সপক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অতীতে দলটি সরকারে থাকাকালে আর্থিক খাতে সবসময় শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় ছিল এবং কোনো বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়নি।
আজ শুক্রবার সংসদে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপনের প্রক্রিয়ায় বিলের বিরোধিতা করে বিলটি জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব করেন ঢাকা-১২ আসনের বিরোধী দলের সদস্য (জামায়াত ইসলামী) সাইফুল ইসলাম মিলন। এর প্রেক্ষিতে বিলটির প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করে অর্থমন্ত্রী বক্তব্য দেন।
পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম বিষয়টি ভোটে দেন। কন্ঠভোটে জনমত যাচাই প্রস্তাবটি নাকচ হয় এবং বিলটি পাস হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দলীয় নীতি ও দর্শনের ভিত্তিতে তারা তাদের মূল অবস্থান থেকে বিচ্যুত হবেন না। তবে সংশোধিত বিলে কিছু নতুন সংযোজন আনা হয়েছে; যা মূল নীতির পরিবর্তন নয়; বরং একটি 'অল্টারনেটিভ রেজল্যুশন অপশন' হিসেবে নতুন একটি সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত করা হয়েছে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, পূর্বে প্রণীত অধ্যাদেশে ব্যাংক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে বিকল্প সমাধানের কোনো পদ্ধতি ছিল না; একমাত্র পথ ছিল সীমিত কিছু অপশন। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে একটি ধারা সংযোজন করা হয়েছে; যার ফলে ব্যাংকগুলোর দুরবস্থা কাটিয়ে উঠতে কেবল লিকুইডেশন, ব্রিজ ব্যাংকে হস্তান্তর বা তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তরের ওপর নির্ভর করতে হবে না। বরং রেজল্যুশন কার্যক্রম শুরুর পূর্বে বিদ্যমান শেয়ারধারী বা উপযুক্ত বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে সম্পদ অধিগ্রহণ ও ধারণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, এই সুযোগ শুধু আগের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নয়; বরং সবার জন্য উন্মুক্ত। এর মূল লক্ষ্য হলো সরকারের আর্থিক দায় কমানো। ইতোমধ্যে সরকার প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এবং আরও প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে; যা বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে কোনো সরকারের জন্য বহন করা কঠিন।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় আবেদনকারীদের মাধ্যমে মূলধন পুনঃস্থাপন এবং পূর্বে প্রাপ্ত সহায়তা ফেরত প্রদানের বাধ্যবাধকতা থাকায় সরকার বা আমানত সুরক্ষা তহবিলের ওপর আর্থিক চাপ কমবে বলে তিনি জানান।
এছাড়া ব্যাংকের সম্পদ ও দায় পুনর্গঠন এবং দ্রুত কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে; যা সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের দুর্বলতার জন্য সব শেয়ারহোল্ডার দায়ী নন; বিশেষ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ব্যবস্থাপনায় সরাসরি যুক্ত থাকেন না। তাই মালিকানা পুনর্বহালের সুযোগ দিলে নির্দোষ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের আর্থিক স্বার্থ পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে; যা ন্যায়সংগততা ও বিনিয়োগ সুরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
এই উদ্যোগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগে উৎসাহ জোগাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, এটি একটি বাজারভিত্তিক সমাধান, যেখানে সরকারি হস্তক্ষেপের পরিবর্তে বেসরকারি উদ্যোগ ও পুঁজি সংযোজনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে। এতে প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে; যা একটি টেকসই পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ ছাড়া লিকুইডেশনের ক্ষেত্রে সম্পদের মূল্য কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকলেও ব্যাংক সচল রেখে পুনর্গঠন করলে সম্পদের প্রকৃত অর্থনৈতিক মূল্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক সচল থাকলে কর্মচারীদের চাকরি ও সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে; যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।