শিরোনাম

ঢাকা, ৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, জাটকা সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিজ্ঞানীদের আরো সক্রিয়ভাবে গবেষণায় যুক্ত হতে হবে।
তিনি বলেন, জাটকার উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া এবং ইলিশ মাছের ডিমের সঠিক পরিস্ফূটন ঘটিয়ে জাটকার সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা জরুরি।
মন্ত্রী আরো বলেন, ইলিশের স্বাদ ও গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখে উৎপাদন আরো বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করতে বিজ্ঞানীদের গবেষণা করতে হবে।
আজ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে ‘ইলিশ গবেষণা : অর্জিত সাফল্য, জাটকা সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ এসব কথা বলেন।
‘জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬ (৭ থেকে ১৩ এপ্রিল) পালন উপলক্ষ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
জেলেদের উদ্দেশে মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ বলেন, জাটকা ধরা বন্ধ করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আপনারা সরকারকে কার্যকর প্রস্তাবনা দিতে পারেন। ইলিশ না পাওয়ার সমস্যা এখন পুরো দেশের, তাই উৎপাদন বাড়িয়ে এই মূল্যবান মাছকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের একটি ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য এবং বিশ্বে মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে হয়ে থাকে।
এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, গত দুই মাসে ৪০ হাজার জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এই সহায়তার আওতায় প্রতি পরিবারকে ৮০ কেজি চাল, ১২ কেজি আটা, ১০ লিটার তেল, ৪ কেজি চিনি, ৮ কেজি ডাল এবং ১৬ কেজি আলু দেওয়া হচ্ছে, যার মোট মূল্য প্রায় ৬ হাজার টাকা।
তিনি আরো বলেন, অতীতে জেলেরা এত পরিমাণ সহায়তা পায়নি।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. কাজী আহসান হাবীব, মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. মোতালেব হোসেন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম।
কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বিএফআরআই ও মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলে, মৎস্যচাষিরা উপস্থিত ছিলেন।