বাসস
  ১৬ মার্চ ২০২৬, ২২:৪৬
আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৬, ২৩:০৮

খাল খনন প্রকল্পে কৃষি, পরিবেশ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে : আমীর খসরু

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফাইল ছবি

ঢাকা, ১৬ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের কৃষি, পরিবেশ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। খাল পুনঃখনন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কৃষি ও অর্থনীতির চিত্র বদলে যাবে।

আজ চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার মলিয়াইশ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায়, প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগে দেশব্যাপী নদী-নালা ও খাল খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক মীরসরাই উপজেলার বামনসুন্দর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রতিটি প্রকল্প যথাযথভাবে ব্যয় নির্ধারণ ও বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এত বড় কর্মসূচি একদিনে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বামনসুন্দর খালের খনন কাজ সম্পন্ন হলে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমি নতুন করে চাষাবাদের আওতায় আসবে। এতে প্রায় পাঁচ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে।

খাল দখলমুক্ত করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক খাল দখল হয়ে আছে। ইতোমধ্যে দখল হয়ে যাওয়া খালগুলোর সীমানা নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি মালিকানাধীন খাল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দখল করে রাখতে পারবে না। সীমানা নির্ধারণের পর সেই অনুযায়ী খাল খননের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য উন্নয়ন প্রকল্পগুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা এবং দুর্নীতির সুযোগ কমিয়ে আনা। কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মতো খাল খনন প্রকল্পও মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘ এই ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন করা গেলে বাংলাদেশের কৃষি, পরিবেশ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন পরিবর্তন আসবে।’

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী (সেচ) মুহাম্মদ বদিউল আলম সরকার, প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।