শিরোনাম

ঢাকা, ১১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো অর্জিত গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, আর এই সংসদীয় ও সাংবিধানিক রাজনীতির সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করতে গণমাধ্যমকে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে।
আজ বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘গণমাধ্যমই হচ্ছে একটি জাতির সম্মিলিত মনোযোগ। মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬৯-এর স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন— প্রতিটি ক্ষেত্রেই গণমাধ্যম বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে। গণমাধ্যমের সেই ভূমিকার কারণেই তৎকালীন আপামর মানুষের মধ্যে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ এই গণচেতনা তৈরি হয়েছিল।’
তিনি আরো বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে যখন একদলীয় শাসন কায়েম হয়েছিল, তার বিপরীতে আবারো মানুষের মধ্যে সেই মনোজগতকে তৈরি করেছে গণমাধ্যম। সেই ধারাবাহিকতাতেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা আবার শুরু করতে পেরেছিলেন। আবার যখন স্বৈরাচার জনগণের ভোটাধিকারকে ১৯৯০ সালে দখল করে নিল, তখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংগ্রামের সমস্ত আবহ তৈরি করেছিল গণমাধ্যম।’
বিগত দেড় দশকের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই এবং জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার প্রাণের বিনিময়ে আমরা গত ১২ ফেব্রুয়ারি ইতিহাসের সবচেয়ে অবাধ নির্বাচন আদায় করতে পেরেছি। এই প্রতিটি পর্বে জনগণের মূল স্রোতের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে গণমাধ্যম। গণমাধ্যম শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছে বলেই আজ সবকিছু সাংবিধানিক ধারায় চলছে।’
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অর্জিত এই গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং সাংবিধানিক ধারাকে অব্যাহত রাখা। সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং বর্তমান নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে আমাদের এই অর্জনকে স্থায়ী রূপ দিতে হবে। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ যেন ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচারকে প্রশ্রয় না দেয়, সেদিকে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সরকার গঠনের পর থেকে গণমাধ্যম যেভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে, সেই পরিবেশ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গণমাধ্যম স্বাধীনভাবেই কাজ করে যাবে। সেই লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে যেরকম সহযোগিতা প্রয়োজন, আমরা সেই সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।’
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএফইউজে সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ এবং ডিইউজের সাবেক সভাপতি যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, ডিইউজে’র যুগ্ম সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।