শিরোনাম

ঢাকা, ১১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)’র চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।
আজ বুধবার দুপুরে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে এবি পার্টি’র নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সংসদ ভবন কার্যালয়ে গিয়ে এ সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বঞ্চনা, স্বৈরশাসন ও আগস্ট বিপ্লব পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবি পার্টির চেয়ারম্যান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন— এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা।
বৈঠকে মজিবুর রহমান মঞ্জু দল ও তার নির্বাচনী এলাকা ফেনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দুটি পৃথক চিঠি হস্তান্তর করেন।
প্রধানমন্ত্রী ধৈর্যসহকারে প্রতিনিধি দলের বক্তব্য শোনেন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবি পার্টিকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ইতিবাচক রাজনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে নেতারা জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময়কার বিভিন্ন স্মৃতিও তুলে ধরেন।
এ সময় এবি পার্টির পক্ষ থেকে জাতীয় বিভিন্ন বিষয়ে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক নিরসনে সমঝোতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সর্বজনীন পরামর্শ সভা আয়োজন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে যৌথ অভিযান পরিচালনা।
এ ছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে দেশ গড়ে তোলা, বিগত ১৭ বছরের শাসনামলে সংঘটিত নির্যাতন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন হত্যাকাণ্ডের বিচার ও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
জাতীয় ইস্যুর পাশাপাশি নিজের নির্বাচনী এলাকা ফেনীর উন্নয়ন সম্পর্কেও কয়েকটি প্রস্তাব দেন মজিবুর রহমান মঞ্জু।
এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—ফেনীতে একটি বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রূপান্তর, ফেনীতে একটি বিমানবন্দর ও সেনা ব্রিগেড স্থাপন, বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, বিসিক শিল্পনগরীর আধুনিকায়ন, কিশোর গ্যাং ও মাদকের দৌরাত্ম্য রোধ এবং আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণ।
এ ছাড়া ফেনী শহরের যানজট নিরসনে রেলগেট এলাকায় ফ্লাইওভার বা আন্ডারপাস নির্মাণের বিষয়টিও বৈঠকে উত্থাপন করা হয়।