বাসস
  ১১ মার্চ ২০২৬, ১৭:১৫

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর ওপর

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ১১ মার্চ ২০২৬ (বাসস) : স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর অর্পণ করেছেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা।

আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

তিনি বলেন, ‘সংসদীয় দলের সভায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা সংসদীয় দল হিসেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মাননীয় সংসদ নেতা স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে প্রার্থী মনোনয়ন নির্ধারণ করবেন।’

তিনি আরও জানান, এই পদে কে থাকবেন, তা আগামীকাল জানা যাবে।

বেলা সোয়া ১১টায় সংসদীয় দলের সভা শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন।

সংসদের প্রথম অধিবেশন দিনের কর্মসূচি তুলে ধরে প্রধান হুইপ বলেন, ‘সংসদীয় দলের সভায় সংসদ নেতা আজ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। সেটা হচ্ছে সংসদে আমরা কেমন আচরণ করব এবং আমাদের কার্যক্রম কি হবে সে বিষয়ে তিনি একটা কথা বলেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দিতে চাই- সংসদ চিরাচরিত পদ্ধতিতে বসবে না। যেহেতু পুরনো স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নেই, তাই সংসদে একটি খালি চেয়ার রেখে অধিবেশন শুরু হবে। প্রথমে কোরআন তেলাওয়াত করা হবে। এরপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা এই সভার সভাপতিত্ব করার জন্য একজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম প্রস্তাব করবেন। অন্য একজন সদস্য তা সমর্থন করবেন। এরপর ওই জ্যেষ্ঠ নেতা সভার সভাপতিত্ব করবেন। সেই সভাতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘স্পিকার নির্বাচিত হয়ে আসন গ্রহণ করার পর সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন দেওয়া হবে। এরপর শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে এবং তা নিয়ে আলোচনা হবে। শোক প্রস্তাবে প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, জুলাই যোদ্ধা এবং দেশবরেণ্য যেসব ব্যক্তি শাহাদাত বরণ করেছেন তাদের নিয়ে আলোচনা হবে।’

প্রধান হুইপ বলেন, ‘এরপর ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হবে। সেগুলো আইনমন্ত্রী উপস্থাপন করবেন। 

২০২৪ সালের কর্মকমিশনের প্রতিবেদনও উত্থাপন করা হবে। এরপরে সংসদ নেতা বক্তব্য রাখবেন।’

তিনি আরও জানান, সংসদের বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি, বিশেষ কমিটি, প্রিভিলেজ কমিটি এবং অন্যান্য সংসদীয় কমিটি গঠনের চেষ্টা করা হবে। যদি কাল তা সম্ভব না হয়, পরবর্তী দিনগুলোতে এসব কমিটি গঠন করা হবে।

ডেপুটি স্পিকারের পদ বিরোধী দল থেকে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে প্রধান হুইপ বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা এখনো পজিটিভ কোনো রেসপন্স পাইনি। রেসপন্স পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

সংসদ উপনেতা পদে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংসদ নেতা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন- সংসদ উপনেতা থাকবেন কি না।’

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট। আমরা শপথ নেইনি। আমরা শপথ নেইনি কারণ এটা সংবিধানে নেই।’

তিনি বলেন, ‘সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর পরবর্তী পরিস্থিতি অনুযায়ী আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

তিনি আরও বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হবে। যেগুলো লুপ্ত হবে সেগুলো লুপ্ত হবে এবং যেগুলো গ্রহণযোগ্য সেগুলো নিয়ম অনুযায়ী গৃহীত হবে। প্রয়োজনীয়গুলো সংসদে পাস করা হবে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পর বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নেতা নির্বাচিত করা হয়। একই দিন বিকেলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

৩০০ আসনের জাতীয় সংসদের দুটি আসনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে এবং এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনের নির্বাচন বাতিল হয়েছে। বাকি ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসন।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসন পেয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৭টি আসনে।