শিরোনাম

ঢাকা, ১০ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, উদ্বেগের কারণ নেই। বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ আছে।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ের বিদ্যুৎ জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদেরকে তিনি এ কথা জানান।
উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা থেকে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টি হয়েছে মন্তব্য করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমরা সকলে জানি যে মধ্যপ্রাচ্যে একটি সংকট চলছে এবং সে সংকটটা যত দীর্ঘায়িত হবে এটা বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হবে। এবং এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ আসলে এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে খুঁজে বের করা কঠিন, সম্মিলিতভাবেই এই সংকট উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বর্তমান সরকার একটি নির্বাচিত সরকার, জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। এই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমরা দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকে কাজ করবার চেষ্টা করছি, যাতে করে জনদুর্ভোগ কমানো যায়, না হলে অন্তত সহনীয় মাত্রায় রাখা যায়।
তিনি বলেন, আমরা বারংবার একটি কথা বলেছি, বর্তমানে বাংলাদেশে জ্বালানি কিংবা বিদ্যুতের কোনো সংকট নেই। যদিও সাম্প্রতিককালে আমরা দেখেছি পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন। এই প্রশ্ন আসতেই পারে তাহলে কেন দীর্ঘ লাইন? এই গণমাধ্যমের বন্ধুরা অর্থাৎ আপনারাই কিন্তু এটি স্পষ্ট করেছেন।
তিনি বলেন, আমাদের স্বাভাবিক যে চাহিদা, সেই চাহিদার চাইতে গত সপ্তাহের পাঁচ দিন কার্যত দুই থেকে তিন গুণ কিন্তু জ্বালানি সরবরাহ করেও কিন্তু আমরা মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা অনেক ক্ষেত্রে কমাতে পারিনি কিংবা কমেনি।
এই অস্বাভাবিক চাহিদা কোনো যৌক্তিক কারণে ছিল না মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে, প্যানিক বায়িং থেকে কিংবা হয়তোবা আমাদের যেভাবেই বলেন, দেশপ্রেমের ঘাটতির জায়গা থেকে এটা ঘটতে পারে। আমরা এটাকে অস্বাভাবিকভাবে দেখিনি, আমরা এটি স্বাভাবিকভাবে দেখেছি এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এটি সমাধান করবার চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, এখানে আমরা স্বাভাবিক যে চাহিদা মানুষের সেই চাহিদাটাকে বিবেচনায় নিয়েছি কারণ আগের সপ্তাহে যখন পাঁচ দিন দুই থেকে তিন গুণ জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে, স্বাভাবিকভাবেই এই জ্বালানি কারো না কারো কাছে রয়ে গেছে—সেটিকে বিবেচনায় নিয়ে গত বছরের এই সময়ে স্বাভাবিক যে চাহিদা ছিল তা থেকে আমরা কিছু রেশনিক করবার চেষ্টা করেছি। এরপরেও আমরা দেখলাম যে কিছু জায়গায় সংকট বেড়েছে।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, আজকে আমরা নোটিশ করেছি যারা রাইড শেয়ার করেন, তাদের লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয় এবং সে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে তারা অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে। এটা লাগবে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।
তিনি বলেন, আগে আমরা রেশনিং করে দুই লিটার তাদের জন্য বরাদ্দ করেছিলাম এটি নিয়ে তাদের জন্য খুব বেশি রাইড করা সম্ভব হয় না। এই সময়ে তাদের জন্য এটি একটি সংকট। যে কারণে আমরা আজকে রাইড শেয়ার যারা করে উবার, পাঠাও একরকম চালকদেরকে আমরা পাঁচ লিটার পর্যন্ত জ্বালানিতে সরবরাহের ব্যবস্থা করেছি। এটি অর্থাৎ দ্বিগুণের চাইতেও বেশি করেছি। আমি মনে করি এটা একটি স্বস্তির কারণ হবে।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবচাইতে বড় ব্যাপার দেখেন, পেট্রোল পাম্পের লাইনটা একটা হচ্ছে মোটরসাইকেলের, আর একটি হচ্ছে প্রাইভেট ভেহিকেলের লাইন। এই সমস্ত ট্রান্সপোর্টের মূল চাহিদা কী? অকটেন এবং পেট্রোল। অকটেন এবং পেট্রোলে তো কার্যরত কোনো সংকট নেই। আপনারা জানেন- পেট্রোল কার্যত পুরোটাই বাংলাদেশেই আমরা নিজেরা উৎপাদন করি, আমরা পরিশোধন করি। অকটেনেরও সিংহভাগ আমরা কিন্তু আমাদের দেশ থেকেই কিন্তু আমরা এটি পরিশোধিত আকারে পাই, কিছু আমাদের আমদানি করতে হয়।
বিদ্যুৎ জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা মূলত জ্বালানি আমদানি নির্ভর ডিজেলের জন্য, ফার্নেস অয়েলের জন্য। কিন্তু আপনি পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখবেন যে লম্বা লাইনটা মূলত মোটরবাইক এবং প্রাইভেট ভেহিকেলের। অর্থাৎ কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই উৎকণ্ঠা থেকে, উদ্বেগ থেকে তারা এই সংকটটা তৈরি হয়েছে।
যা যখন আমি মনে করছি, আমরা মনে করছি উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠার জায়গাটা কী? জ্বালানি পাওয়া যাবে না। আর একটি আশঙ্কা কী? জ্বালানির দাম বাড়তে পারে। কিন্তু যখন একটানা এতদিন পরেও কোনো পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি সংকট হয়নি—হয়তোবা জ্বালানি পেতে আপনাকে একটু লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে—এবং এখনো পর্যন্ত যখন জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পায়নি, তখন আমার ধারণা এই উদ্বেগ সময়ের সাথে সাথে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়ও কমে যাবে।'
তিনি বলেন, গতকাল দু’টি জাহাজ আসার কথা ছিল গড়ে ৩০ হাজার টনের জ্বালানি নিয়ে। একটি এসেছে। আর একটি বর্হিনোঙ্গরে পৌঁছেছে। আজকে দুপুর নাগাদ মনে করছি আমরা এটার জ্বালানি খালাস করতে পারবো। ১২ তারিখে আর একটি কিন্তু জাহাজ আসছে।
সেহেতু আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আমরা অতীতেও বলেছিলাম—আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে বলছি—জালানি এবং বিদ্যুৎ নিয়ে সাম্প্রতিক অতীতেও কোনো সংকট ছিল না, এই মুহূর্তে কোনো সংকট নেই আল্লাহর রহমতে।