বাসস
  ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৯:২৭

লালমনিরহাট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও ভারতীয় মালামাল জব্দ

লালমনিরহাট, ৫ মার্চ ২০২৬ (বাসস): লালমনিরহাট সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও প্রসাধনী সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে বিজিবির বিভিন্ন বিওপির পাঁচটি বিশেষ টহলদল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে।

জানা যায়, গত ৪ মার্চ রাত ৮টা ৪০ মিনিটে বালারহাট বিওপির আওতাধীন বালাটারী এলাকা (থানা-ফুলবাড়ী, জেলা-কুড়িগ্রাম), ৫ মার্চ রাত ৩টা ২০ মিনিটে রামখানা বিওপির আওতাধীন সরকারটারী এলাকা (থানা-নাগেশ্বরী, জেলা-কুড়িগ্রাম) এবং একইদিন সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ঝাউরানী বিওপির আওতাধীন উত্তর ঝাউরানী এলাকা (থানা-হাতিবান্ধা, জেলা-লালমনিরহাট) এলাকায় তিনটি পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালে সন্দেহজনক ব্যক্তিদেরকে বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া দিলে চোরাকারবারিরা তাদের বহনকৃত মালামাল ফেলে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ১৯৯ বোতল ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ, ৫৬ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপ এবং ৫ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়।

এছাড়া মোগলহাট বিওপি কর্তৃক ৪ মার্চ রাত ৯টা ২০ মিনিটে চরফলিমারী এবং ৫ মার্চ সকাল ৭টায় কর্নপুর এলাকায় পৃথক আরও দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিজিবির টের পেয়ে চোরাকারবারিরা মালামাল ফেলে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী সামগ্রী এবং ১৯ বোতল হ্যাপিগোল্ড মদ জব্দ করা হয়।

বিজিবি জানায়, জব্দকৃত মাদক ও মালামালের মধ্যে রয়েছে—ইস্কাফ সিরাপ ১৯৯ বোতল (মূল্য ৭৯ হাজার ৬০০ টাকা), ফেয়ারডিল সিরাপ ৫৬ বোতল (মূল্য ২২ হাজার ৪০০ টাকা), গাঁজা ৫ কেজি (মূল্য ১৭ হাজার ৫০০ টাকা), হ্যাপিগোল্ড মদ ১৯ বোতল (মূল্য ২২ হাজার ৮০০ টাকা) এবং ভারতীয় বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী (মূল্য ২ লাখ ৮৩ হাজার ৬০০ টাকা)। সব মিলিয়ে জব্দকৃত মালামালের মোট সরকারি সিজার মূল্য ৪ লাখ ২৫ হাজার ৯০০ টাকা।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।

সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলো চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চোরাচালান ও মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।