বাসস
  ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:০২

নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৯০তম জন্মবার্ষিকী পালিত

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি : বাসস

নড়াইল, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : জেলায় আজ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৯০তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষে আজ সদর উপজেলার নূর মোহাম্মদ নগরে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে সকাল ৮টায় কোরআনখানি, সাড়ে ১০টায় র‌্যালী, ১১টায় ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এর স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ ও গার্ড অব অনার প্রদান এবং সাড়ে ১১টায় নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জন্মবার্ষিকীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আছাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আহসান মাহমুদ রাসেল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টি.এম রাহসিন কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই আলম সিদ্দিকী,  নূর মোহাম্মদ শেখের ছেলে এসএম গোলাম মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন।

পরে তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা (বর্তমান নাম নূর মোহাম্মদনগর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নূর মোহাম্মদ শেখের জন্মভূমি মহিষখোলার নাম পরিবর্তন করে ২০০৮ সালের ১৮ মার্চ নূর মোহাম্মদ নগর করা হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ১৯৫৯ সালের ১৪ মার্চ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর) এ যোগদান করেন তিনি। যা বর্তমানে ‘বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ’ (বিজিবি) হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে চাকরি করার পর ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই যশোর সেক্টরে বদলি হন। পরবর্তীতে ল্যান্স নায়েক হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। ১৯৭১ সালে যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। নূর মোহাম্মদ শেখ যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নের্তৃত্বে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশ শত্রুমুক্ত করেন। ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে গুলিতে সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া গুরুতর আহত হলে নূর মোহাম্মদ শেখ হাতে এলএমজি এবং কাঁধে আহত সাথীকে নিয়ে শত্রু পক্ষের দিকে এগিয়ে যান এবং গুলি ছুড়তে থাকেন। এ সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে মারাত্মক জখম হন তিনি। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নূর মোহাম্মদ আশংকাজনক অবস্থায়ও নিজের জীবনের কথা না ভেবে যুদ্ধ চালিয়ে যান এবং গুলি চালাতে চালাতে সামনের দিকে অগ্রসর হন। এক সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। এদিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ এবং দলীয় সঙ্গীদের জীবন ও অস্ত্র রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হন নূর মোহাম্মদ শেখ। যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুরে তাকে সমাহিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত হন তিনি।