বাসস
  ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:২৭
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫৬

কুমিল্লায় ইফতারে চাহিদার শীর্ষে হালিম, মাষকলাই ও শাহী জিলাপি

প্রথম রোজা থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে ইফতার বেচাকেনা। ছবি : বাসস

দেলোয়ার হোসাইন আকাইদ

কুমিল্লা, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নগরীর ইফতার বাজারে উৎসবের আমেজ। প্রথম রোজা থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে ইফতার বেচাকেনা। বিকেল গড়াতেই ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত হোটেল- রেস্তোরাঁ সবখানেই দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ইফতারের প্রায় এক ঘণ্টা আগেই অনেক দোকানে শেষ হয়ে যায় জনপ্রিয় খাবারগুলো।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রোজার প্রথম দিন দুপুরের পর থেকেই নগরীর কান্দিরপাড়, নিউমার্কেট, রাজগঞ্জ, রানীবাজার, চকবাজার, মোঘলটুলি, রামঘাট, টমছমব্রীজ, পাদুয়ারবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রেতারা সাজিয়ে বসেন নানা পদের ইফতার সামগ্রী। 

সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল তিনটার পর থেকেই ক্রেতারা ভিড় করতে শুরু করেন। আসরের নামাজের পর ভিড় আরও বেড়ে যায়। ইফতারের আধাঘণ্টা আগে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে। এসময় সবাই তাড়াতাড়ি ইফতারি কিনে বাড়ি নিয়ে যেতে চায়। 

ইফতার বাজারে এবার সবচেয়ে বেশি চাহিদা লক্ষ্য করা গেছে হালিম, মাষকলাই (ডালভিত্তিক আইটেম) ও শাহী জিলাপির প্রতি। পাশাপাশি পিঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, ছোলা, মুড়ি, জালি কাবাব, শাম্মি কাবাব, শিক কাবাব, চিকেন ফ্রাই, বোরহানি, ফিরনি, শাহী জর্দা, তেহারি, কাচ্চি বিরিয়ানি, কালা ভুনা, মোরগ ও খাসির রানও রয়েছে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায়।

নগরীর কান্দির পাড়, রাজগঞ্জ এলাকার একাধিক রেস্তোরাঁ ও ফুটপাতের দোকানে দেখা যায়, বিশাল হাঁড়িতে ধোঁয়া উঠছে হালিমের। ক্রেতারা দাঁড়িয়ে কিনছেন গরম গরম হালিম। অনেকেই বলছেন, রমজানে হালিম ছাড়া ইফতার যেন অপূর্ণ থেকে যায়।
নগরীর সুজানগর এলাকার বাসিন্দা মো. রাসেল হাসান জানান, প্রতি বছরই কান্দিরপাড় থেকে ইফতার কিনতে আসি। বিশেষ করে বিফ, চিকেন ও মাটনের আলাদা হালিম পাওয়া যায়। পরিবারে সবাই হালিম পছন্দ করে। তাই প্রথম রোজায় হালিম না কিনলে চলে না।

রাজগঞ্জ এলাকার ভাসমান এক দোকানে ইফতার কিনতে আসা সোহাগ মিয়া বলেন, এখানে তুলনামূলক কম দামে ইফতার পাওয়া যায়। তবে গত বছরের তুলনায় এবার কিছুটা দাম বেড়েছে। দশ টাকার নিচে কোনো আইটেম নেই।

চকবাজারে ইফতার কিনতে আসা মোবারক হোসেন বলেন, এখানে ইফতার কেনার আলাদা আনন্দ আছে। বেশির ভাগ আইটেমের দাম আগের মতোই আছে। তবে কিছু কিছু পণ্যে সামান্য বাড়তি নেওয়া হচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার প্রভাব ইফতার সামগ্রীতেও পড়েছে। চকবাজারের বিক্রেতা মো. বিপুল বলেন, মানুষ আসরের নামাজের পর থেকেই আসতে শুরু করে। ইফতারের এক ঘণ্টা আগে ভিড় বেড়ে যায়। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে পিঁয়াজু, ছোলা, মুড়ি, বেগুনি আর জিলাপি।

নগরীর কান্দিরপাড় প্ল্যানেট এস আর এ অবস্থিত চায়না গার্ডেন রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক মো. সেলিম মুন্সী জানান, রমজান উপলক্ষে তারা প্রতিদিন প্রায় একশ’ আইটেম প্রস্তুত করছেন। বিফ, চিকেন ও মাটন তিন ধরনের হালিমই বিক্রি হচ্ছে সমান দামে। ক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনায় মান বজায় রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সার্বিকভাবে রমজানের প্রথম দিনেই কুমিল্লার ইফতার বাজারে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। অলিগলির ভাসমান দোকান থেকে শুরু করে বড় রেস্তোরাঁ সবখানেই জমেছে বেচাকেনা। বিক্রেতাদের প্রত্যাশা, রমজান জুড়ে প্রতিদিনই দুপুর থেকে মাগরিব পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় আরও বাড়বে এবং এই প্রাণচাঞ্চল্য বজায় থাকবে পুরো মাসজুড়ে।