বাসস
  ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৪১
আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৪৩

অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও অপচয় রোধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি

ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : দেশে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও অপচয় রোধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ গ্যাস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার।

নতুন অধ্যাদেশে গ্যাস চুরির অপরাধে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। 

আজ মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ তথ্য জানান। 

এই অধ্যাদেশ বাংলাদেশ গ্যাস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ নামে অভিহিত হবে। 

রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এই অধ্যাদেশ জারি করেন।

সংশোধিত অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, দেশের কোনো বিদ্যুৎ ও সার কারখানা শ্রেণিভুক্ত গ্রাহক যদি অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করে দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাকে অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড বা ৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে শাস্তির পরিমাণ বেড়ে অন্যূন, ২ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার বিধানও রয়েছে নতুন আইনে। 

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, শিল্প, ক্যাপটিভ পাওয়ার, সিএনজি স্টেশন বা চা বাগান গ্রাহকদের ক্ষেত্রে প্রথমবার অপরাধে ১ বছর কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানা। পুনরাবৃত্তিতে ১ থেকে ৩ বছর কারাদণ্ড এবং ৪ লাখ টাকা জরিমানা গুণতে হবে। আর বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে অনধিক ৬ মাস কারাদণ্ড বা ৪০ হাজার টাকা জরিমানা। পুনরাবৃত্তিতে ৬ মাস থেকে ১ বছর কারাদণ্ড এবং ৮০ হাজার টাকা জরিমানা।

অন্যদিকে গৃহস্থালি গ্রাহকদের ক্ষেত্রে অনধিক ৩ মাস কারাদণ্ড বা ২০ হাজার টাকা জরিমানা। পুনরাবৃত্তিতে ৩ থেকে ৬ মাস কারাদণ্ড এবং ৪০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, শুধু ব্যবহারকারী নয়, যদি কোনো জমির মালিক, ভবন বা ফ্ল্যাটের স্বত্বাধিকারী গ্যাস চুরিতে সহায়তা করেন বা প্ররোচনা দেন, তবে তিনিও অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন। 

এক্ষেত্রে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, স্বত্বাধিকারী দোষী সাব্যস্ত হলে শ্রেণিভেদে ১০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া গ্যাস বিতরণ কোম্পানির কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই অধ্যাদেশে ‘প্ররোচনা’ শব্দের নতুন সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। যা অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা আরও সহজ করবে। এছাড়া, গ্যাস ব্যবহারের সঠিক পরিমাপের জন্য মিটার নেই-এমন গৃহস্থালি সংযোগকে ‘নন-মিটারড’ গ্রাহক হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

অধ্যাদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে।