শিরোনাম

ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রধান নির্বাচন পর্যবেক্ষক ইভারস ইজাবস বলেছেন, বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক এবং স্বচ্ছ হয়েছে।
নির্বাচনে জালিয়াতির কোনও প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিনি নির্বাচন পরিবর্তী সকল সহিংসতা এড়াতে এবং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল হতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইইউ প্রধান পর্যবেক্ষক এসব কথা বলেন।
ইভারস ইজাবস বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে নির্বাচন এবং এর প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে এসেছি। নির্বাচন সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক ছিল। একটি নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়েছে। ২ হজারের বেশি প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়ায় ভোটাররা বিস্তৃত রাজনৈতিক বিকল্প পেয়েছেন। যার মাধ্যমে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।’
ভোটার উপস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ভোট প্রদান কেবল সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। আসল বিষয়টি হল সমাজের সকল প্রাসঙ্গিক গোষ্ঠী অংশগ্রহণ করছে কিনা বা কেউ বাদ পড়েছে কিনা।
প্রধান পর্যবেক্ষক নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণকে উদ্বেগের বিষয় উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচনে মাত্র চার শতাংশ নারী প্রার্থী ছিলেন।
এ সময়ে তিনি গণতন্ত্র নাগরিক সমতা ক্ষেত্রে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি অনুসারে নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব জোরদার করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে ইভারস ইজাবস জানান, পর্যবেক্ষকরা মাঠ পরিদর্শনের সময় আদিবাসী, ধর্মীয় এবং নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করেছেন।
প্রধান পর্যবেক্ষক কমিশনের কাজের সামগ্রিক ধারণাকে ইতিবাচক বর্ণনা করে বলেন, প্রার্থী নিবন্ধন এবং ভোটদান পদ্ধতিসহ বেশ কয়েকটি কার্যকরী ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের লজিস্টিক প্রস্তুতি এবং স্বচ্ছতার বিষয়ে প্রশংসার দাবী রাখে।
তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের প্রতি যদি দায়িত্ব থাকে, তাহলে সবাইকে অবশ্যই দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তারা ৬৪টি জেলার ৮০৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোট পর্যবেক্ষণ করেছে। অভিযোগ এবং আপিল পরিচালনাসহ নির্বাচন-পরবর্তী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করার জন্য মিশনটি মার্চের প্রথমার্ধ পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকবে।
বিস্তারিত অনুসন্ধান এবং সুপারিশসহ একটি বিস্তৃত চূড়ান্ত প্রতিবেদন এপ্রিলের শেষের দিকে বা মে মাসের প্রথম দিকে প্রকাশিত হবে।