বাসস
  ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৩৪

উন্নয়ন বঞ্চিত জেলার ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় সাতক্ষীরাবাসী   

ছবি : বাসস

মো. আসাদুজ্জামান

সাতক্ষীরা, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অপেক্ষায় দেশ। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত জাতীয় নির্বাচন। অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে এমনই প্রত্যাশা দেশবাসীর। তবে ভোটারদের প্রত্যাশা আরও নির্দিষ্ট। তারা চান তাদের ভোটে জয়ী হবেন এমন কেউ যিনি উন্নয়ন বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করবেন। মানুষের জন্য শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ নিশ্চিত করবেন। 

আগামীকালের নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্প্রতি সাতক্ষীরা ২ আসনের ভোটার ও প্রার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে সীমান্তবর্তী এই জেলার বাসিন্দারা ভাগ্যবঞ্চিত। 

রাজা যায়, রাজা আসে, কিন্তু তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না। 

সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা উপজেলা নিয়ে সাতক্ষীরা ২ সংসদীয় আসন গঠিত। এই আসনের আয়তন মোট ৫৭১.৭৮ বর্গ কিলোমিটার। মোট জনসংখ্যা ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৯৭৮ জন। জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩০ হাজার ৫৮১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৪ হাজার ১১ জন। মহিলা ভোটার ২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৬৬ জন। হিজড়া ভোটার ৪ জন। নতুন ভোটার সংখ্যা ১৯ হাজার ৯৪১ জন। এই আসনে একটি পৌরসভা রয়েছে। যার নাম সাতক্ষীরা পৌরসভা।

১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে এই আসনে ৫টি রাজনৈতিক দলের পাঁচ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

তারা হলেন, বিএনপির আব্দুর রউফ, জামায়াতের মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, জাতীয় পার্টির আশরাফুজ্জামান, জাসদের ইদ্রিস আলী ও ইসলামী আন্দোলনের মুফতী রবিউল ইসলাম। 

প্রার্থীদের সাথে নির্বাচনি আলাপচারিতায় জানা যায়, সাতক্ষীরা-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত এই এলাকার প্রধান সমস্যা মাদক এবং সন্ত্রাস। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এটি মাদকের জোন হিসেবে পরিণত হয়েছে। তাই তারা সাতক্ষীরাকে মাদকমুক্ত করতে চান। এছাড়া বর্ষার সময় জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের ব্যাপক ফসলহানি হয় এবং জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে। এই জলাবদ্ধতা দূরীকরণের ব্যাপারে প্রায় সব প্রার্থীই কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। এছাড়াও ভোমরা বন্দরের উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নেও কাজ করতে চান তারা। সাতক্ষীরাবাসীর উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ব্যাপারেও আশাবাদী এ আসনের প্রার্থীরা। 

সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটার ভোটারদের কাছে জলাবদ্ধতা নিরসন, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল চালুসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থীরা।  

স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উন্নয়নবঞ্চিত সাতক্ষীরাবাসীর প্রাণের দাবি তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং জেলার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। যে প্রার্থী এই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে তাকেই ভোট দেবেন তারা। শিক্ষার মানোন্নয়ন, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ইত্যাদি বিষয়গুলোই উঠে এসেছে সাধারণ ভোটারদের আলোচনায়। 

স্থানীয় ভ্যান চালক মোস্তফা গাজী বাসসকে বলেন, ‘আমাদের মতো শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে যিনি কাজ করবেন তাকেই ভোট দেবো। 

তরুণ সাংবাদিক ফয়জুল হক বাবু বাসসকে বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর উন্নয়ন বঞ্চিত সাতক্ষীরাবাসী সাতক্ষীরার সার্বিক উন্নয়নে যিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন এবং সমাজ থেকে দুর্নীতি, অনিয়ম নির্মূল করতে পারবেন বলে মনে করি এমন প্রার্থীকেই ভোট দেবো।’

নির্বাচনি আচরণবিধি পালনে রাজনৈতিক দলগুলো এবার বিশেষ মনোযোগী। তারা নিজেরা আচরণবিধি পুরোপুরিভাবে মেনে চলছেন বলে দাবি করেন। আবার এক দল আরেক দলকে আচরণবিধি মানার ব্যাপারে হুঁশিয়ারিও দিচ্ছেন। কাজেই তারা ভরসা করতে চান যে, নির্বাচনি আচরণবিধি না মানলে নির্বাচন কমিশন অভিযুক্তকে যথাযথ শাস্তি দেবে। 

নির্বাচন কমিশনের কঠোর নজরদারিতে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছেন ভোটার ও প্রার্থীরা। তবে কালো টাকার বিনিময়ে ভোট বেচাকেনার সংস্কৃতি কারো কারো মধ্যে রয়েছে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। 

জানা যায়, এখনও পর্যন্ত সাতক্ষীরা সদরসহ সব কয়টি আসনে কোনো রকম রাজনৈতিক ভায়োলেন্স হয়নি। 

সুন্দর এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটারদের কাছে মানুষ যেতে পারছে। তাই সবাই ১২ ফেব্রুয়ারির সকালের অপেক্ষায়।