শিরোনাম

ঢাকা, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকায় স্যানিটেশন ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করে পানিদূষণ কমানো এবং নদী-খাল পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ৩৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালনা পর্ষদ।
‘মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’ বৃহত্তর ঢাকায় পানিদূষণ কমাতে স্থানীয় ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা জোরদার করবে। দেশের মোট আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের প্রায় অর্ধেক এবং জিডিপির এক-তৃতীয়াংশই আসে বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চল থেকে।
বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কর্মসূচিতে ফলাফলভিত্তিক পদ্ধতি চালু করা হবে, যাতে সিটি কর্পোরেশন এবং পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা) মাঠ পর্যায়ে পরিমাপযোগ্য উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে। এর আওতায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্যানিটেশন সেবা এবং ৫ লাখ মানুষকে উন্নত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা দেওয়া হবে। দূষণ ও সেবা ঘাটতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, ‘বৃহত্তর ঢাকায় বসবাসকারী লাখো মানুষের জীবনরেখা হলো জলাশয়গুলো। কিন্তু দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়ন এ শহরের বর্জ্য ও দূষণ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে। এটি জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই কর্মসূচি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দূষণ কমানো এবং ঢাকার নদী-খালের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।’
ঢাকা গুরুতর বর্জ্যপানি ও পানিদূষণ সমস্যায় রয়েছে। মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ বাসিন্দার পাইপলাইনভিত্তিক পয়ঃনিষ্কাশন সংযোগ রয়েছে, আরও ২ শতাংশ কার্যকর ফিকাল স্লাজ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। অপরিশোধিত বর্জ্যপানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের ৮০ শতাংশের বেশি সরাসরি ঢাকার নদী ও খালে গিয়ে পড়ে। এছাড়া, ঢাকার অর্ধেকেরও বেশি খাল বিলুপ্ত, ভরাট বা অবরুদ্ধ হওয়ায় দূষণ আরও বেড়েছে।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কর্মসূচিটি সরকারি ও বেসরকারি খাত এবং সিটি কর্পোরেশনগুলোকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিত পদ্ধতি গ্রহণ করবে। এর মাধ্যমে সেবা প্রদান উন্নত করা, নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং দূষণ কমিয়ে ও প্রবাহক্ষমতা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে ঢাকার নদী-খাল পুনরুজ্জীবিত করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিল্প দূষণও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানার প্রায় ৮০ শতাংশ ঢাকায় অবস্থিত। ৭ হাজারের বেশি কারখানা প্রতিদিন আনুমানিক ২ হাজার ৪০০ মিলিয়ন লিটার অপরিশোধিত বর্জ্যপানি জলপথে নিঃসরণ করে। এর ফলে চর্মরোগ, ডায়রিয়া ও স্নায়বিক সমস্যা দেখা দেয়।
কর্মসূচিতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ জোরদার হবে। বিশেষত ঢাকার ভেতর ও আশপাশের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিল্প বর্জ্যপানি শোধন ও পানি পুনর্ব্যবহারে দক্ষতা ও বিনিয়োগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করা হবে। এতে পানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং দূষণ কমবে।
প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার ও বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন বিশেষজ্ঞ হর্ষ গোয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশের সামগ্রিক পানি নিরাপত্তা ও সহনশীলতা এজেন্ডা সমর্থনে এটি বহুধাপের দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির অংশ।’
তিনি বলেন, ‘এই ধাপে ঢাকার জলাশয়ে দূষণ নিঃসরণ কমানো অগ্রাধিকার পাবে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ও নিয়ন্ত্রক তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। এর মধ্যে থাকবে নদীগুলোর জন্য সমন্বিত পানি মান সূচক প্রণয়ন, ডিজিটাল রিয়েল-টাইম দূষণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং ঢাকার চারটি প্রধান নদীর জন্য সমন্বিত পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা।’
প্রথম ধাপে কর্মসূচিটি ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের নির্বাচিত এলাকায় বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে প্রধান খাল ও নদীর আশপাশের সেবাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহের আওতা বাড়ানো এবং পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা উন্নত করা হবে।
সাথে কঠিন বর্জ্য ফেলা, ড্রেনেজ নেটওয়ার্কে সরাসরি পয়ঃনিষ্কাশন এবং নদী-খালে শিল্প বর্জ্যপানি নিঃসরণ বন্ধে কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন সচেতনতা কার্যক্রম ও আইন প্রয়োগ জোরদার করা হবে।
স্বাধীনতার পর থেকে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের একটি প্রধান সহায়তাকারী উন্নয়ন অংশীদার। এ পর্যন্ত সংস্থাটি অনুদান, সুদমুক্ত ও স্বল্পসুদে ঋণ হিসেবে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমানে ৪৩টি প্রকল্পে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন চলমান রয়েছে।