বাসস
  ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৫৩

‘বলসুন্দরী ও থাই’ কুল চাষে গোপালগঞ্জের জসিমের সাফল্য

কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করেই বড় আকারের ও সুস্বাদু কুল উৎপাদন করছেন উদ্যোক্তা গোপালগঞ্জের এস এম জসিম রহমান। ছবি : বাসস

।। লিয়াকত হোসেন লিংকন।।

গোপালগঞ্জ, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বলসুন্দরী ও থাই জাতের কুল চাষ করে সাফল্যে অর্জন করেছেন গোপালগঞ্জের এস এম জসিম রহমান (৪০)। 

এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর চাকরির পেছনে না ছুটে ব্যবসার পাশাপাশি তিনি কৃষিকে বেছে নিয়েছেন। তার এ উদ্যোগ শুধু নিজের ভাগ্যই বদলায়নি, আশার আলো দেখাচ্ছে এলাকার বহু বেকার যুবককে।

জেলার সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের পুখুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা উচ্চশিক্ষিত যুবক এস এম জসিম রহমান। ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামলে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তিনি। তবে হতাশ না হয়ে কৃষিভিত্তিক কিছু একটা করার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের সামান্য জমির পাশাপাশি আরও ৬বিঘা জমি লিজ নেন। সব মিলিয়ে ১০ বিঘা জমিতে গড়ে তোলেন একটি আধুনিক কুল বাগান।

বাগানে তিনি বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় ‘বল সুন্দরী’ ও ‘থাইকুল’ জাতের প্রায় ১ হাজার ২০০টি চারা রোপণ করেন। নিবিড় পরিচর্যা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগে অল্প সময়েই তার বাগানে সাফল্যের ছোঁয়া লাগে। বর্তমানে পুরো বাগানজুড়ে থোকায় থোকায় লাল-সবুজ কুল ঝুলছে।

কৃষি উদ্যোক্তা জসিম জানান, তার বাগানে সাধারণ কুলের পাশাপাশি কিছু বারোমাসি জাতের গাছ রয়েছে। যার ফলে সারা বছরই কম-বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব। বছরে অন্তত ১০টন কুল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছেন তিনি। তার সাফল্যের অন্যতম দিক হলো কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করেই তিনি বড় আকারের ও সুস্বাদু কুল উৎপাদন করছেন। বিষমুক্ত ফলের চাহিদা বেশি থাকায় পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকেই প্রতি কেজি কুল ১২০ টাকা দরে কিনে নিচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে তিনি প্রায় ৬ লাখ টাকার কুল বিক্রি করেছেন। মৌসুম শেষে এ আয় ১০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদী। তার বাগানে স্থানীয় অন্তত ১০ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন, যা কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

ব্যক্তিগত জীবনে জসিম দুই সন্তানের জনক। তার বড় মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

জসিম বলেন, ‘করোনার সময় যখন সব পথ বন্ধ হয়ে আসছিল, তখন সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই লিজ নেওয়া জমিতে ঝুঁকি নিয়েছিলাম। আজ পরিবারের সচ্ছলতা ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ এ বাগান থেকেই আসছে। এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

জসিমের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার আলম খান, গাউস শেখসহ আরও অনেকেই এখন বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষে এগিয়ে আসছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মামুনুর রহমান বলেন, ‘জসিম রহমান উচ্চশিক্ষিত যুবকদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি প্রমাণ করেছেন মেধা ও আধুনিক পদ্ধতির সঠিক প্রয়োগ করলে কৃষিতে সফল হওয়া সম্ভব। পাশাপাশি বিষমুক্ত কুল উৎপাদনের মাধ্যমে তিনি জনস্বাস্থ্যের প্রতিও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। কৃষি বিভাগ থেকে তাকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’