শিরোনাম

রংপুর, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : র্যাব-১৩ আজ গাইবান্ধার সদর থানার দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকা থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও র্যাবের সদস্য পরিচয় দিয়ে জনগণকে প্রতারণা করার অভিযোগে জালিয়াতির মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেফতার করেছে।
তাকে এক জোড়া সেনা বুট, একটি সেনা ব্যাগ, এক জোড়া হাতকড়া, একটি সেনা পরিচয়পত্র, একটি সরকারি সিল, একটি সেনা মোবাইল পাস, একটি সেনা নামফলক, দু’টি সেনা স্টিকার, জাল চাকরি সংক্রান্ত নথি, একাধিক সিমকার্ড, একটি মোবাইল ফোন সেট ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ বিকেলে র্যাব-১৩ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তি হলেন মো. আল আমিন (২৭)। তিনি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানার উলিপুর পৌরসভার নারিকেলবাড়ি এলাকার মো. আশরাফুল ইসলামের ছেলে।
ভুক্তভোগী অটোরিকশা চালক নন্দলালের দায়ের করা অভিযোগের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি ভিকটিমকে অটোরিকশায় ভ্রমণের সময় বলেছিলেন যে তিনি একজন সেনা সদস্য এবং বর্তমানে গাইবান্ধা র্যাব ক্যাম্পে কর্মরত।
ভুক্তভোগী অটোরিকশা চালক তাকে বিশ্বাস করে ভুয়া র্যাব সদস্যকে তার দখলকৃত জমি উদ্ধারের জন্য অনুরোধ করেন।
পরে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি তার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অটোরিকশা চালককে গাইবান্ধা বাসস্ট্যান্ডে আসতে বলেন। সেখানে প্রতারক আল আমিন ভিকটিমকে জমি উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৪ হাজার টাকা নেন।
টাকা পাওয়ার পরও ভিকটিম কোনও প্রতিকার না পাওয়ায প্রতারক আল আমিনের মোবাইল ফোনে কল করলে তিনি নম্বরটি বন্ধ পান।
এরপর, ভুক্তভোগী গাইবান্ধা র্যাব ক্যাম্পে খোঁজখবর নেন এবং জানতে পারেন যে আল আমিন নামে কোনও র্যাব সদস্য সেখানে কাজ করছেন না।
পরে, ভুক্তভোগী নন্দলাল গাইবান্ধা সদর থানায় একটি জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, র্যাব-১৩ এর গাইবান্ধা ক্যাম্পের একটি চৌকস অপারেশনাল টিম আজ ভোরে দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. আল আমিনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিকভাবে, এলিট ফোর্স জানতে পারে যে অভিযুক্ত মো. আল আমিন বিভিন্ন সময়ে নিজেকে সেনাবাহিনী এবং র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
তিনি কর্নেল, লেফটেন্যান্ট কর্নেল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইত্যাদির নাম দিয়ে তার ব্যবহৃত বিভিন্ন সিমকার্ডের নম্বর মোবাইল ফোনে সংরক্ষণ করতেন, যাতে ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জন করা যায় এবং কাজটি সম্পন্ন হবে বলে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া যায়।
তিনি সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের কথা বলে টাকা আদায়ের জন্য বিভিন্ন বাহিনীর ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম অবৈধভাবে তাদের দেখিয়ে তাদের আস্থা অর্জন করতেন।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গাইবান্ধা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।