শিরোনাম

ঢাকা, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কিছুটা থমকে আছে, তবে এ সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত সরকার আসলে গঠনমূলক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সম্পর্ক আরও মসৃণ হবে।
আজ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা সবসময়ই নয়াদিল্লির সঙ্গে ‘সুসম্পর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক স্বার্থ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সরকারের ভেতরে কোনো মতভেদ নেই।
তবে তিনি স্বীকার করেন, অনেক ক্ষেত্রে দুদেশের সম্পর্ক কিছুটা থমকে আছে। তিনি এ পরিস্থিতিকে বড় কোনো সংকট নয়, বরং অগ্রগতিহীন একটি সময়কাল হিসেবে বর্ণনা করেন।
উপদেষ্টা বলেন, দুই দেশের জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন উপলব্ধির কারণে এ স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। প্রত্যেক পক্ষই নিজেদের স্বার্থ রক্ষার কথা ভেবেছে, যা সবসময় একসঙ্গে মেলেনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাজের চাপ কমে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কোনো অমীমাংসিত বোঝা রেখে যাচ্ছে না, বরং ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এগিয়ে নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে আলোচনায় যুক্ত রয়েছে, যার ফলে শুল্ক কমে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের ও পাকিস্তানের জন্য শুল্কহার ১৮ শতাংশ এবং বাংলাদেশও একই হার নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের শুল্ক হ্রাস অর্জিত হলে আগামী সরকারের জন্য একটি বড় কাজ আগেভাগে সম্পন্ন হয়ে যাবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাপান ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা হঠাৎ করে শুরু হয়নি, বরং এক থেকে দেড় বছর আগে শুরু হওয়া উদ্যোগের ফলাফল হিসেবে এগুলো এগিয়ে এসেছে। এসব আলোচনার কয়েকটি এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তিনি আরও বলেন, এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে একটি কাঠামো তৈরি হবে, যা আগামী সরকারকে আরও মসৃণভাবে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।
সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।