বাসস
  ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:২৬

নৌ উপদেষ্টার হার্ডলাইনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি, চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি ২ দিন স্থগিত

নৌপরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন আজ দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ছবি: বাসস

চট্টগ্রাম, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল এবং বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকের পর নৌপরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আগামীকাল (শুক্রবার) সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দর সচল করা হবে, কেউ বাধা দিলে সরকার হার্ডলাইনে যাবে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বৈঠকের পর শুক্রবার ও শনিবার কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে পুনরায় কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে অচলাবস্থার মধ্যে আজ দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন নৌ উপদেষ্টা। বৈঠক শেষে প্রথমে উপদেষ্টা এবং পরে বন্দর রক্ষা পরিষদের নেতারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, আমি উনাদের বলেছি, রোজার আগে এই ধরনের আন্দোলন, পোর্ট বন্ধ করে রাখা-এটা অত্যন্ত অমানবিক। আপনাদের বক্তব্য কিন্তু পোর্ট বন্ধ না করেও দেওয়া যেত। পোর্ট বন্ধ রাখার কারও কোনো এখতিয়ার নেই। আজকে এভিয়েশন ফুয়েল আটকে আছে, আনার চেষ্টা চলছে। এভিয়েশন ফুয়েল আটকে থাকা মানে বুঝতে হবে আমাদের এভিয়েশনের কী অবস্থা হবে!

তিনি আরও বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বিদেশি বিনিয়োগ ও চুক্তি প্রয়োজন। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী চুক্তি সম্পন্ন হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নাশকতা বা অহেতুক বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে বন্দর সচল রাখতে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এবং দেশের অর্থনীতির কথা বিবেচনা করে তারা আগামী দুই দিন আন্দোলন স্থগিত রাখবেন। তবে এই সময়ের মধ্যে তাদের যৌক্তিক দাবি- চেয়ারম্যানের অপসারণ ও এনসিটি ইজারা বাতিল-পূরণ না হলে ফের কঠোর কর্মসূচিসহ লাগাতার কর্মবিরতিতে নামবেন।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা উপদেষ্টাকে দুই দিনের সময় দিয়েছি। তাই শুক্রবার ও শনিবার আমাদের আন্দোলন স্থগিত থাকবে। নির্দিষ্ট সময়ের পর দাবি না মানলে আবারও আন্দোলনে যাব।

গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৯১ শতাংশ এই বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়, যা বর্তমানে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বহির্নোঙরে জাহাজ আটকে আছে, জেটিতে পণ্য খালাস হচ্ছে না এবং ১৯টি অফডক থেকে কনটেইনার পরিবহন বন্ধ রয়েছে।

বর্তমানে বন্দর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ধীরগতিতে কার্যক্রম স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া চলছে।