শিরোনাম

ঢাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ন্যায্যতা অপরিহার্য বলে আজ এক সেমিনারে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বার্তা বহন করে।
দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি এবং ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস-এর আয়োজনে রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে ‘বাংলাদেশের নির্বাচন, রাজনীতি ও অর্থনীতি : করণীয়’ শীর্ষক এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স-বাংলাদেশ (আইসিসি-বি)-এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান।
মাহবুবুর রহমান বলেন, গণতন্ত্র শুধু একটি রাজনৈতিক আদর্শ নয়। বরং এটি একটি অর্থনৈতিক সম্পদ।
বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের মতো জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাজার টিকে থাকে পূর্বানুমেয়তা, আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর। অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া বিনিয়োগকারী ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারের বার্তা বহন করে।
অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মূলধনের ব্যয় বাড়ায় এবং মুদ্রার প্রতি আস্থা দুর্বল করে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ব্যবসায়ী সমাজ ভবিষ্যৎ শাসন ব্যবস্থার জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা তুলে ধরে-রাজনৈতিক পূর্বানুমানযোগ্যতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ।
কঠোর জবাবদিহিতার আহ্বান জানিয়ে আইসিসি-বি সভাপতি ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এবিবি)-এর অর্থপাচারকারী ও ব্যাংক লুটেরাদের শাস্তির দাবিকে সমর্থন জানান।
তিনি দেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচারে জড়িত ব্যক্তিদের নাম ও ছবি প্রকাশের দাবির প্রতিও সমর্থন ব্যক্ত করেন।
বক্তারা বলেন, জনমত তুলে ধরতে গণমাধ্যমকে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন ভূমিকা পালন করতে হবে এবং রাজনৈতিক নেতাদের স্বল্পমেয়াদি লাভের পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সেমিনার শেষে সর্বসম্মতভাবে বলা হয়, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে গণতন্ত্র, শাসনব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কৌশলকে একটি সুসংহত জাতীয় দিকনির্দেশনায় একীভূত করার ওপর।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মাহরিন খান এবং নওশিন খান। পরে ব্যবসায়ী নেতা, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।