শিরোনাম

ঢাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি. আর. আবরার বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা সংস্কার কার্যক্রম কেবল কিছু নির্দিষ্ট রিপোর্ট বা দাপ্তরিক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং একে একটি শক্তিশালী সামাজিক শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা একটি ইম্প্যাক্টফুল সময় পার করতে চাই, যাতে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিক্ষা খাতে একটি টেকসই ও কাঠামোগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়। আমাদের লক্ষ্য হলো শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটি নতুন ধাপে নিয়ে যাওয়া এবং এর মাধ্যমে একটি কার্যকর সোশ্যাল ফোর্স তৈরি করা।’
আজ মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বহুমুখী হলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তরের লক্ষ্যে গঠিত পর্যালোচনা কমিটির খসড়া প্রতিবেদন উপস্থাপনা শীর্ষক এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
সংশ্লিষ্ট পর্যালোচনা কমিটি ‘একটি সমন্বিত সমগ্র স্কুলিং দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ’ শীর্ষক এই খসড়া প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করেছে।
অধ্যাপক সি. আর. আবরার বলেন, অনেক আগে থেকেই ‘শিক্ষার স্বপ্ন’ শীর্ষক একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সাথে দীর্ঘ ৫-৭ বছর ধরে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করা হয়েছে।
সেই অভিজ্ঞতাই বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর আমাদের অনেকটা ‘ফায়ার ফাইটিং’ অর্থাৎ তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে। কিন্তু প্রতিকূল পরিবেশেও আমরা সংস্কারের কাজ থেকে পিছিয়ে আসিনি। আমাদের লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিনের আহরিত দৃষ্টিভঙ্গি ও অন্তর্দৃষ্টিকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার ভিতে পরিবর্তন আনা।’
শিক্ষার সাথে সাংস্কৃতিক ও জাতীয় পরিচয়ের সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. আবরার বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের বিনিময়ে কোনো বিশেষ ধারাকে চাপিয়ে দেওয়ার মাশুল আমাদের দিতে হচ্ছে। সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, সরকারের মেয়াদ শেষে তিনি পুনরায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষা সংস্কার কার্যক্রমের পক্ষে সক্রিয় থাকবেন।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন, কমিটির আহ্বায়কের ভাষণ দেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী। খসড়া প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. অনন্ত নীলিম।
প্রতিবেদনের ওপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী।
বক্তারা শিক্ষার মান উন্নয়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের বৈষম্যহীন অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, গবেষক ও সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।