শিরোনাম

রাজশাহী, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আজ দিনব্যাপী পাখি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে অনুষ্ঠিত এবারের মেলার প্রাতিপাদ্য ছিল ‘পাখি দেখো, পাখিকে ভালোবাসো, পাখিকে রক্ষা করো’।
প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহায়তায় রাবি বার্ড কনজারভেশন ক্লাব মেলার আয়োজন করে। এছাড়া বার্ডশাহী ও ভ্যালেন্ট টেক লিমিটেড নামের দুটি সংগঠন মেলায় সহযোগিতা করে।
অনুষ্ঠানে ছিল পাখি পর্যবেক্ষণ প্রতিযোগিতা, পাখি আঁকার প্রতিযোগিতা, পাখির আলোকচিত্র প্রদর্শনী, পুরস্কার বিতরণসহ নানা আয়োজন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন খান, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম, বিভাগের অধ্যাপক আমিনুজ্জামান মো. সালেহ রেজা, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, রাবি বার্ড কনজারভেশন ক্লাব ২০১২ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এ মেলার আয়োজন করে আসছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম দূষণ থেকে পরিযায়ী পাখি ও তাদের আবাসস্থল রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি পাখি শিকার ও পাচার রোধে বিদ্যমান আইন আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং চোরা শিকারিদের ধরতে স্থানীয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
পাখি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আমিনুজ্জামান সালেহ রেজা প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় পরিযায়ী পাখির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব পাখি কীটপতঙ্গ ও বীজ বিস্তার, পুষ্টি চক্র এবং পরাগায়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পরিযায়ী পাখির নিরাপদ বসবাস ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসহ নিরাপদ আশ্রয়স্থল ও উদ্যান গড়ে তোলার জোর দাবি জানানো হয়।
অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান আলোক দূষণ ও প্লাস্টিক দূষণ অভিবাসী পাখি ও তাদের আবাসস্থলের ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে তা তুলে ধরেন। তিনি প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন।
অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান আরও জানান, বাংলাদেশে আবাসিক ও পরিযায়ী মিলিয়ে প্রায় ৭১০ প্রজাতির পাখির মধ্যে ৬৫০ প্রজাতির পাখিকে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
যে পাখিগুলো বছরের নির্দিষ্ট সময়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যায়, তাদের অভিবাসী পাখি বলা হয়।
এরা পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।