বাসস
  ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:০৯

বিদ্যা ও সম্প্রীতির উৎসবে মুখর চবি, ১৪ মণ্ডপে সরস্বতী পূজা

সরস্বতীর আরাধনায় উৎসবের রঙে রঙিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ছবি: বাসস

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও শিল্পচর্চার প্রতীক বিদ্যার দেবী সরস্বতীর আরাধনায় উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস। 

অনুষদভিত্তিক ও কেন্দ্রীয় মন্দির মিলিয়ে এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মোট ১৪টি মণ্ডপে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে রূপ নিয়েছে এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।

আজ শুক্রবার মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থীদের ভিড় দেখা যায়। পুষ্পাঞ্জলি, বাণী অর্চনা, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা অংশ নেন সরস্বতী বন্দনায়। আলপনা, ফুল ও আলোকসজ্জায় সাজানো মণ্ডপগুলো দিনভর ছড়িয়ে দেয় উৎসবের আবহ।

কেন্দ্রীয় মন্দিরের পাশাপাশি সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, কলা ও বিজ্ঞান অনুষদ, বুদ্ধিজীবী চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের নিজ উদ্যোগে নির্মিত মণ্ডপগুলোতে ছিল ব্যস্ততা ও আনন্দের সমাহার। এর মধ্যে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের মণ্ডপে দেখা গেছে সবচেয়ে প্রাণবন্ত পরিবেশ। সেখানে পূজা আর সাংস্কৃতিক আড্ডা মিলেমিশে তৈরি করেছে আলাদা মাত্রা।

অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের অয়ন্তিকা পাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এটি আমার দ্বিতীয় সরস্বতী পূজা। মণ্ডপ সাজানো থেকে শুরু করে আয়োজন, সবকিছুতেই আমরা শিক্ষার্থীরাই যুক্ত ছিলাম। ১৪টি মণ্ডপে একসঙ্গে পূজা হওয়ায় পুরো ক্যাম্পাসটাই উৎসবের মতো লাগছে।

একই বিভাগের শিক্ষার্থী অহনা হালদার বলেন, নিজের অনুষদে পূজা হওয়ায় আলাদা একটা আবেগ কাজ করছে। শিক্ষকরা সহযোগিতা করেছেন, আমরা নিজেরাই আয়োজন করেছি। বড় আয়োজন না হলেও পুরো ক্যাম্পাসে একটা জগন্নাথ হলকেন্দ্রিক পূজার মতো অনুভূতি তৈরি হয়েছে।

পূজায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী শুভ বিশ্বাস বলেন, সরস্বতী বিদ্যা ও শিল্পকলার দেবী। আমরা প্রার্থনা করেছি— যেন ক্যাম্পাসে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকে এবং আমরা সবাই মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারি।

সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক ও গবেষক রুনা সাহা বলেন, শুভ পঞ্চমী তিথিতে আমরা বিদ্যা, সুর ও শিল্পের আরাধনা করেছি। এই বন্দনার মধ্য দিয়ে আমরা চেয়েছি সবাই যেন সুজ্ঞান ও সুবিদ্যা অর্জন করতে পারে এবং ঐকতানের সুরে একত্রিত হতে পারে।

তিনি আরো জানান, এ বছর প্রায় ১৪টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন হয়েছে। পুরো অনুষ্ঠান অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলছে। শিক্ষার্থী ও আশপাশের এলাকার মানুষ পূজায় অংশ নিচ্ছেন এবং প্রসাদ গ্রহণ করছেন।

সরস্বতী পূজাকে ঘিরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়, বরং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক অনন্য উদযাপন। দিনভর সেই উৎসবের রেশ ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে, রেখে যায় সৌহার্দ্য ও মিলনের বার্তা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরে সনাতন ধর্ম পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শ্রীপঞ্চমী’র শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, ক্যাম্পাসজুড়ে আড়ম্বরপূর্ণভাবে সরস্বতী পূজা পালিত হচ্ছে। এটি আমাদের ক্যাম্পাসের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন। ধর্ম শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য। কোনো ধার্মিক মানুষ কারো অকল্যাণ কামনা করতে পারে না। ধর্মের সাথে সম্পর্ক রাখলে কারো দ্বারা খারাপ কাজ, গুজব রটানো, টাকায় নিয়োগ দেওয়া এবং কোনো অপকর্ম করা সম্ভব না।