শিরোনাম

।। এসকে রাসেল ।।
কিশোরগঞ্জ, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): জেলার ১৩টি উপজেলা নিয়ে গঠিত ছয়টি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। এ জেলায় মোট ২৭ লাখ ২৭ হাজার ভোটারের বিপরীতে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এর মধ্যে ৪০ জন দলীয় এবং ৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। কিশোরগঞ্জ- ১ ও কিশোরগঞ্জ-৫আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত দুই নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় পুরুষ ভোটার ১৩ লাখ ৯৪ হাজার ১৮৫ জন, নারী ভোটার ১৩ লাখ ৩২ হাজার ৭৮৭ জন এবং হিজরা ভোটার রয়েছেন ২৮ জন। পুরো জেলায় ভোট গ্রহণ হবে ৯১৩টি ভোট কেন্দ্রে এবং ৫ হাজার ১০৫টি ভোট কক্ষে।
কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৫ হাজার ১৩৭ জন। এই আসনে রয়েছে ১৮১টি ভোট কেন্দ্র এবং ১ হাজার ১৮টি ভোট কক্ষ, যার মধ্যে ২৩টি অস্থায়ী। এখানে বিএনপি থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, বাসদ (মার্কসবাদী) থেকে ‘কাচি’ প্রতীকে আলাল মিয়া, এনপিপি থেকে ‘আম’ প্রতীকে তারেক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, সিপিবি থেকে ‘কাস্তে’ প্রতীকে মো. এনামুল হক, বাসদ থেকে ‘মই’ প্রতীকে মো. মাসুদ মিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ‘রিকশা’ প্রতীকে দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ হাদী, খেলাফত মজলিস থেকে ‘দেয়ালঘড়ি’ প্রতীকে দলটির কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আহাম্মদ আলী এবং স্বতন্ত্র (বিএনপি বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে ‘মোরগ’ প্রতীকে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রেজাউল করিম খান চুন্নু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদি-ুপাকুন্দিয়া) আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩২ হাজার ৫১৬ জন। এখানে ১৭০টি ভোট কেন্দ্র ও ৯৮৮টি ভোট কক্ষ রয়েছে, যার মধ্যে ৫১টি অস্থায়ী। এই আসনে বিএনপি থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির অ্যাড. মো. জালাল উদ্দীন, জামায়াতে ইসলামী থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর শূরা সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম মোড়ল, জাতীয় পার্টি থেকে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে মো. আফজাল হোসেন ভূইয়া, গণঅধিকার পরিষদ থেকে ‘ট্রাক’ প্রতীকে জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন থেকে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে আবুল বাশার রেজওয়ান, বিএনএফ থেকে ‘টেলিভিশন’ প্রতীকে বিল্লাল হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ময়ূর’ প্রতীকে মো. আনিসুজ্জামান খোকন ও ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীকে নুর উদ্দিন আহমদ নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-ুতাড়াইল) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৬২৫ জন। এই আসনে রয়েছে ১৫১টি ভোট কেন্দ্র ও ৮২৩টি ভোট কক্ষ, যার মধ্যে ১৬টি অস্থায়ী। এখানে বিএনপি থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ ওসমান ফারুক, জামায়াতে ইসলামী থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে দলটি কেন্দ্রীয় কমিটির শূরা সদস্য কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খান, এনপিপি থেকে ‘আম’ প্রতীকে মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি থেকে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক, ইসলামী আন্দোলন থেকে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে মো. আলমগীর হোসাইন, গণতান্ত্রিক পার্টি থেকে ‘কবুতর’ প্রতীকে দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ফুটবল’ প্রতীকে এবিএম আলমগীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
হাওর অধ্যুষিত কিশোরগঞ্জ-৪(ইটনা-ুমিঠামইনু-অষ্টগ্রাম) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮ হাজার ৩৫২ জন। এখানে ১৫০টি ভোট কেন্দ্র ও ৭৯৬টি ভোট কক্ষ রয়েছে, যার মধ্যে ৩০টি অস্থায়ী। এই আসনে বিএনপি থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাড. ফজলুর রহমান, জামায়াতে ইসলামী থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতে ইসলামীর শূরা সদস্য অ্যাড. মো. রোকন রেজা শেখ, ইনসানিয়াত বিপ্লব থেকে ‘আপেল’ প্রতীকে নুরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন থেকে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে অ্যাড. বিল্লাল আহমেদ মজুমদার, এনপিপি থেকে ‘আম’ প্রতীকে মো. জয়নাল আবেদীন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ‘রিকশা’ প্রতীকে খাইরুল ইসলাম ঠাকুর এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ঘোড়া’ প্রতীকে ডা. শাহীন রাজা চৌধুরী ও ‘ফুটবল’ প্রতীকে কাজী রেহা কবির সিগমা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
কিশোরগঞ্জ-৫(নিকলী-ুবাজিতপুর) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬৬ জন। এখানে রয়েছে ১১৯টি ভোট কেন্দ্র ও ৬৬৪টি ভোট কক্ষ, যার মধ্যে ৫৮টি অস্থায়ী। এই আসনে বিএনপি থেকে ধানের ‘শীষ প্রতীকে’ সদ্য বিএনপিতে যোগদেওয়া সৈয়দ এহসানুল হুদা, জামায়াতে ইসলামী থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, মুসলিম লীগ থেকে ‘হারিকেন’ প্রতীকে মো. সাজ্জাদ হোসেন, ইসলামী ফ্রন্ট থেকে ‘মোমবাতি’ প্রতীকে মো. অলি উল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন থেকে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, জাতীয় পার্টি থেকে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে মো. মাহবুবুল আলম এবং স্বতন্ত্র (বিএনপি বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে ‘হাঁস’ প্রতীকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল ও ‘হরিণ’ প্রতীকে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান কাইয়ুম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৮ হাজার ৮০৪ জন। এই আসনে রয়েছে ১৪২টি ভোট কেন্দ্র ও ৮১৬টি ভোট কক্ষ, যার মধ্যে ১২টি অস্থায়ী। নয়জন প্রার্থীর অংশগ্রহণে এটি জেলায় সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখানে বিএনপি থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম, খেলাফত মজলিস থেকে ‘রিকশা’ প্রতীকে মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, ইনসানিয়াত বিপ্লব থেকে ‘আপেল’ প্রতীকে নাঈমুল হাসান, জাতীয় পার্টি থেকে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে মোহাম্মদ আইয়ুব হোসেন, ইসলামী আন্দোলন থেকে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে মোহাম্মদ মুসা খান, ইসলামী ফ্রন্ট থেকে ‘মোমবাতি’ প্রতীকে মো. রুবেল হোসেন, গণফোরাম থেকে ‘সূর্য’ প্রতীকে শাফি উদ্দিন আহম্মদ এবং সিপিবি থেকে ‘কাস্তে’ প্রতীকে মোহাম্মদ হাবিল মিয়া নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।