শিরোনাম

ঢাকা, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার এবং ২ কোটি ৭১ লাখ লিটারের বেশি সয়াবিন তেল ক্রয়ের পৃথক প্রস্তাব বিবেচনা করবে সরকার।
এ বিষয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি আগামীকাল বাংলাদেশ সচিবালয়ে বৈঠকে বসবে এবং বৃহৎ পরিসরে পরিশোধিত সয়াবিন তেল ও ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করবে।
অর্থ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ২ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল ক্রয়ের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব বৈঠকে পর্যালোচনা করা হবে।
এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের ১১তম লটের আওতায় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্রানুলার ইউরিয়া সার আমদানির একটি প্রস্তাবও বৈঠকে আলোচনায় আসবে, যা কৃষিতে এই গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে।
গুরুত্বপূর্ণ এই আমদানি প্রস্তাবগুলোর পাশাপাশি বৈঠকে আরও কয়েকটি বিষয় বিবেচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে-ফরিদপুর ও গাইবান্ধায় সার বাফার গুদাম নির্মাণ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জন্য জাহাজ ও উচ্চগতির নৌযান ক্রয়, বিআইডব্লিউটিসি প্রকল্পের আওতায় অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌযানের ভ্যারিয়েশন প্রস্তাব এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক নিরাপত্তা ও সড়ক সংযোগ উন্নয়নসংক্রান্ত একাধিক প্রকল্প।
এছাড়া, বিশ্ব ব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সম্পাদিত অনুদান চুক্তির আলোকে ‘আইএসও কম্পোনেন্ট-০১: কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলা এবং নোয়াখালীর ভাসানচরে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প’-এর অধীনে এফডিএমএন (জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক) অংশে জাতিসংঘ সংস্থা নিয়োগের একটি প্রস্তাব (প্যাকেজ নং এসডি-০৮) বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
বৈঠকে ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে সার সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় প্যাকেজ-২, লট-৩ অনুযায়ী ফরিদপুরে ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার একটি সার গুদাম নির্মাণ এবং একই প্রকল্পের প্যাকেজ-৪, লট-৪ অনুযায়ী গাইবান্ধায় ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার আরেকটি সার গুদাম নির্মাণের ক্রয় প্রস্তাবও বিবেচিত হতে পারে।
এছাড়া ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিস্থাপন জাহাজ ক্রয় (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় প্যাকেজ ডব্লিউডি-১ অনুযায়ী পাঁচটি রিভারাইন প্যাট্রোল ভেসেল (আরপিভি) নির্মাণ এবং রাজস্ব বাজেটের আওতায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জন্য দুটি বড় উচ্চগতির নৌযান ক্রয়ের প্রস্তাবও আগামীকালের ক্রয় কমিটির বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে।
এর পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ রোড সেফটি’ প্রকল্পের আওতায় প্যাকেজ নং এসপি (আরএইচডি)-০২ এম অনুযায়ী সড়ক অবকাঠামো মূল্যায়ন, নকশা, তত্ত্বাবধান, পরিবেশ ও সামাজিক ব্যবস্থাপনা এবং ভূমি অধিগ্রহণ সেবাসংক্রান্ত পরামর্শক নিয়োগের একটি প্রস্তাবও বৈঠকে আলোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।