বাসস
  ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:২০

নতুন বেতন কাঠামো সংক্রান্ত পে কমিশনের প্রতিবেদন আগামীকাল জমা দেওয়া হবে : ড. সালেহউদ্দিন

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ফাইল ছবি

ঢাকা, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের উদ্দেশ্যে গঠিত পে কমিশন আগামীকাল প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে।

তিনি বলেন, পে কমিশনের প্রতিবেদনে থাকা সম্ভাব্য সুপারিশগুলো প্রথমে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে।

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বিভিন্ন কমিটি তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে, এরপরই বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। ফলে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে।

অর্থ উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করে বলেন, পে কমিশনের সুপারিশে সরকারি কর্মচারীরা সন্তুষ্ট হবেন। কারণ কমিশনের সদস্যরা সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই তাদের প্রস্তাব প্রস্তুত করেছেন।

বেতন বৃদ্ধি বাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, এতে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না।

তিনি বলেন, ‘সরকার সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে,’ যা বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বেতন বৃদ্ধি কোনো নির্বাচনী প্রভাব ফেলবে কি না-এমন প্রশ্ন নাকচ করে দিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়টির সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই।

বর্তমান পে কমিশনের কাজকে তিনি একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, কমিশনের সদস্যরা প্রক্রিয়াটিতে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘তারা সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সংগঠন পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী ও প্রবীণ নাগরিকসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন।’

সবার সব দাবি শতভাগ পূরণ করা সম্ভব নয়-এ কথা স্বীকার করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন শ্রেণির প্রয়োজন ও প্রত্যাশা যতটা সম্ভব সুপারিশে প্রতিফলিত হবে।

তবে তিনি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, পে কমিশনের সব প্রস্তাব হুবহু বাস্তবায়িত নাও হতে পারে, সেগুলো পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কার প্রসঙ্গে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, প্রশাসনিক সংস্কারের জন্য গঠিত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন কাঠামোর আওতায় এনবিআরকে দুটি পৃথক উইংয়ে বিভক্ত করা হবে-একটি কর নীতি এবং অন্যটি কর প্রশাসনের জন্য।

তিনি জানান, বর্তমান অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) কাঠামো বিলুপ্ত করা হবে এবং নিকার ইতোমধ্যে এই নতুন ব্যবস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, আগামী ২৭ জানুয়ারি ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ কর নীতি সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেবেন। ‘ভবিষ্যৎ রাজস্ব ব্যবস্থাপনার বহু দিক এই প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করবে।’

নিজেদের মেয়াদকাল প্রসঙ্গে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, বর্তমান প্রশাসন এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ করছে, যা পরবর্তী সরকারের জন্য একটি ইতিবাচক উত্তরাধিকার হিসেবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা নিজেই পে কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণ করবেন, এটাই প্রমাণ করে সরকার এ বিষয়টিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।’