বাসস
  ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:১৫

নিয়মিত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের আহ্বান ভূমি উপদেষ্টার

ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার । ফাইল ছবি

ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : নিয়মিত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের আহ্বান জানিয়ে ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, ভূমি উন্নয়ন কর রাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য রাজস্ব উৎস।

তিনি বলেন, এই করের মাধ্যমে সরকার স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য নিয়মিত ও স্থিতিশীল অর্থায়নের সুযোগ পায়। সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, সেচ ব্যবস্থা, গ্রামীণ অবকাঠামোসহ বহুমুখী জনকল্যাণমূলক কাজে ভূমি উন্নয়ন করের অর্থ ব্যয় করা হয়। নাগরিকদের প্রদত্ত করই আবার জনগণের কল্যাণে ফিরে আসে।

আজ রাজধানীর ভূমি ভবনের সম্মেলন কক্ষে ‘সংস্থার ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ. জে. এম. সালাউদ্দিন নাগরী।

ভূমি উপদেষ্টা বলেন, ভূমি থেকে সঠিকভাবে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সময়মতো কর পরিশোধ না করলে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তাই দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক ভূমির মালিককে নিয়মিত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে রাষ্ট্র গঠনে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উপদেষ্টা আরও বলেন, ডিজিটাল ভূমিসেবা কার্যক্রম চালুর ফলে ২০২০ সাল থেকে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের হার প্রতিবছর ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রথম দিকে অনলাইন সিস্টেমে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা থাকলেও বর্তমানে শতভাগ অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে একদিকে হয়রানি কমেছে, অন্যদিকে জনগণের মধ্যে কর পরিশোধে আগ্রহ ও সচেতনতা বেড়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, নিজ নিজ সংস্থার কর পরিশোধে উদাসীনতা রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সমাজে নেতিবাচক বার্তা দেয়।

উপদেষ্টা বলেন, ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কর আদায় অপরিহার্য। নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের মাধ্যমে ভূমির মালিকরা কেবল আইনগত দায়বদ্ধতাই পূরণ করেন না, বরং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে প্রত্যক্ষ অবদান রাখেন। বিপরীতে, কর ফাঁকি বা উদাসীনতা রাজস্ব ঘাটতি সৃষ্টি করে, যা উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যাহত করে এবং সরকার ন্যায্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।

তিনি আরও বলেন, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধকে শুধুমাত্র আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে না দেখে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কর পরিশোধে সচেতনতা বাড়লে যেমন রাষ্ট্র উপকৃত হবে, তেমনি ভূমির মালিকানাগত নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে। নিয়মিত কর পরিশোধের ফলে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা, মামলা-মোকদ্দমা ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

কর্মশালায় জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭১১ কোটি ২০ লাখ ৭৬ হাজার ২০০ টাকা। এর মধ্যে এ পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৮২ কোটি ৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা। জুন ২০২৫ পর্যন্ত বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়া রয়েছে ৫৬১ কোটি ৭৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ভূমি উন্নয়ন করের মোট দাবি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪৯ কোটি ৪২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে, যার পরিমাণ ২২০ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ. এস. এম. সালেহ আহমেদ, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) মোহাম্মদ ইউসুফ এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ড. মো. মাহমুদ হাসান।

এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধিসহ ভূমি মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।