শিরোনাম

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান
খুলনা, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস): মহানগরীর জনগুরুত্বপূর্ণ তিনটি সড়কের অন্ধকার দূর করতে সাড়ে ৬ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীন কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারী (এল জিসি আর আর) প্রকল্পের আওতায় খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
কেসিসি জানায়, এ প্রকল্পের আওতায় খুলনা মহানগরীর শেরে বাংলা রোড, কেডিএ এভিনিউ ও যশোর রোডে স্মার্ট লাইট স্থাপন করা হবে। তিনটি সড়কে স্মার্ট লাইট স্থাপনে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয় হবে। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য শিগ্গিরই দরপত্র আহ্বান করা হবে।
কেসিসি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগ শহরকে আলোকিত রাখতে ২৮ হাজারেরও বেশি বিদ্যুৎ বাতি সরবরাহ করে। দীর্ঘদিন ধরে খুলনা মহানগরীকে চার লেনে উন্নীত করায় ময়লাপোতা থেকে গল্লামারী হয়ে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কটি অন্ধকারাচ্ছন্ন রয়েছে। সন্ধ্যা নামতেই চারিদিক ভূতুড়ে অন্ধকারে ঢেকে যায়। ওই সড়কে বৈদ্যুতিক ল্যাম্পের আলোর বিপরীতে যানবাহনের হেডলাইটের আলোই একমাত্র পথ চেনা ও চলাচলের উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র জানায়, ময়লাপোতা মোড় পার হয়ে জোহরা খাতুন স্কুল, হাজিবাড়ি মোড়, কমার্স কলেজ হোস্টেল, তাবলীগ মসজিদ, এসওএস স্কুল, লায়ন্স স্কুল, গল্লামারী ব্রিজ থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়ক অন্ধকারে রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন দুর্ঘটনা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি কর্মব্যস্ত নগরবাসী রাতে ঘরে ফিরতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এসব এলাকায় অন্ধকার দূরীকরণ ও বৈদ্যুতিক পোল স্থাপনের লক্ষ্যে এই প্রকল্পের আওতায় ৮৬ টি পোল ও ৪১২টি মোশন সেন্সর সার্ভার বেজ এলইডি র্স্মাট লাইট স্থাপন করা হবে।
সড়কগুলো হলো, খুলনা মহানগরীর শেরে বাংলা রোড (ময়লাপোতা থেকে গল্লামারী মিড আইল্যান্ড পর্যন্ত), কেডিএ এভিনিউ (শিববাড়ি থেকে রয়্যাল মোড় পর্যন্ত) এবং যশোর রোড (খুলনা থানার মোড় থেকে নগর ভবন, কেডি ঘোষ রোড, বিভাগীয় কমিশনারের বাংলো থেকে কাস্টমস ঘাট হয়ে ডাকবাংলা মোড় পর্যন্ত)। এ তিন সড়কে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারী (এল জিসি আর আর) প্রকল্পের আওতায় মোশন সেন্সর, সার্ভার বেজ এলইডি র্স্মাট লাইট ও পোল স্থাপন করা হবে। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে প্রকল্পের অনুমোদন মিলেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) এ মাসের শেষের দিকে দরপত্র আহ্বান করবে বলে জানিয়েছে।
একই সাথে কেডিএ এভিনিউয়ের শিববাড়ি থেকে রয়্যাল মোড় পর্যন্ত এবং যশোর রোডস্থ খুলনা থানার মোড় থেকে নগর ভবন, কেডিএ ঘোষ রোড, বিভাগীয় কমিশনারের বাংলো থেকে কাস্টমস ঘাট হয়ে ডাকবাংলা মোড় পর্যন্ত সড়কে বরাদ্দের বাকি পোল ও মোশন সেন্সর সার্ভার বেজ এলইডি র্স্মাট লাইট স্থাপন করা হবে। এসব জায়গায় নতুন বাতি স্থাপনের পর পুরাতন বাতিগুলোকে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে প্রতিস্থাপনেরও উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর খুলনা মহানগর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত খুদা বলেন, কেসিসি আলোকবাতি বৃদ্ধি করছে, এটা নগরবাসীর জন্য সুসংবাদ। কাজটি যাতে মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করা হয়, এই প্রত্যাশা করি।
তিনি বলেন, ‘প্রকল্পে পোল বসবে, লাইটও দেওয়া হবে, কিন্তু আলো জ্বলবে না, এমনটি যেন না হয়।’ এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সার্বক্ষণিক মনিটরিং করতে হবে। রক্ষণাবেক্ষণ ও তা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি সেটআপ বা জনবল আছে, তাদেরও সঠিকভাবে মনিটরিং করতে হবে।’
কেসিসির বিদ্যুৎ বিভাগের উপ-প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নগরবাসী যেন শহরে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারে, সে কারণে সর্বত্র আলোকবাতি প্রদান করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। অভিযোগ পেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করি। নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করতেই শেরে বাংলা রোডে পর্যাপ্ত পোল ও আলোকবাতির ব্যবস্থাসহ কেডিএ এভিনিউ ও যশোর রোডে পোল ও আলোকবাতি স্থাপন ও প্রতিস্থাপন করা হবে। প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই প্রকল্পটির ইতোমধ্যে অনুমোদন মিলেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই দরপত্র আহ্বান করা হবে।
প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নাজমুস সাদাত মো. জিল্লুর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারী (এল জিসি আর আর) প্রকল্পটি প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে অনুমোদন মিলেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হবে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. মশিউজ্জামান খান বাসসকে বলেন, খুলনাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপ দিতে সারা বছর ধরেই কেসিসির উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এল জিসি আর আর প্রকল্পের আওতায় এবার খুলনার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সড়কে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪১২টি আধুনিক ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী লাইট ও ৯২টি পোল স্থাপন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর হলেও এ কার্যক্রমকে নগরবাসী ইতিবাচক হিসাবে দেখবে। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর এ কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে কাজ শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, কেসিসি খুলনা মহানগরীকে ঢেলে সাজাতে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনা মহানগরী এলাকার ২২টি মোড়ে কেসিসির সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করার কথা ছিল। এর মধ্যে ১৮টি মোড়ে আলোকবাতির কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ওই আলোকসজ্জায় সংশ্লিষ্ট প্রকল্প থেকে ১ কোটি ২১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। যার মধ্যে সংযোজন করা হয়েছে ডাবল অ্যালার্ম স্ট্রিট লাইট, ডাবল অ্যালার্ম গার্ডেন লাইট, সিংগেল অ্যালার্ম গার্ডেন লাইট, ডিভাইডার স্ট্রিট লাইট ও হাই মাস্ট লাইটসমূহ। যা মোড়গুলোর সৌন্দর্যবর্ধন করেছে। সড়কগুলোকে আরো দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে। ইতোমধ্যে দৃশ্যমান এই আলোকবাতি নগরবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।