বাসস
  ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:২৩

দিনাজপুরে চলছে টানা মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, জনজীবনে দুর্ভোগ

ছবি : বাসস

 রোস্তম আলী মন্ডল 

দিনাজপুর, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : উত্তরের জনপদ হিমালয়ের পাদদেশের জেলা দিনাজপুরে জেঁকে বসেছে শীত। তাপমাত্রার পারদ ৮ ডিগ্রি থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে উঠানামা করছে। এ জেলায় টানা ৭ দিন ধরে চলছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ।

স্থানীয় দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া দপ্তর জানায়, চলতি জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে শেষ পর্যন্ত তাপমাত্রার পারদ আরও নামতে পারে বলে পূর্ব আভাস দিয়েছে।

আজ রোববার দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড করে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আরও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শুক্রবার ৯ জানুয়ারি তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে বৃহস্পতিবার ৮ জানুয়ারি তাপমাত্রার পারদ ছিল ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বুধবার ৭ জানুয়ারি ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, মঙ্গলবার ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সোমবার ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

তাপমাত্রার পারদ উঠানামা করলেও জেলায় জেকে বসেছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। সেইসঙ্গে হিমশীতল বাতাস শীতের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গভীর রাত থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে জেলার সর্বত্র। দুপুরের দিকে রোদের মুখ দেখা গেলেও হিম শীতল বাতাসের কারণে রোদের তাপ কাজে আসছে না। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ। বেশি বেকায়দায় পড়েছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। ঘন কুয়াশার কারণে বেলা ১১ টা পর্যন্ত সড়ক গুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। অনেক সময় ঘন কুয়াশার কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা।

ট্রাকচালক মো. সুনজ মিয়া জানান, ঘন কুয়াশার কারণে কয়েক দিন আগে জেলার বিরামপুরে ডিভাইডারের সঙ্গে আমার ট্রাকের ধাক্কা লাগে। তবে বড় দুর্ঘটনা অল্পের জন্য ঘটেনি। এ ধরনের দুর্ঘটনা অহরহ ঘটছে। ঘন কুয়াশার কারণে রাস্তা ঠিক মতো দেখা যায় না।

শহরের বাসিন্দা চাকরিজীবী হাসনা বেগম বলেন, কয়েকদিন ধরে খুব শীত পড়েছে। গত বছর এমন শীত দেখা যায়নি। শীতের কারণে বাচ্চাদের কাপড়-চোপড় শুকাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শীতের সময় বাচ্চারা কাপড় প্রচুর নষ্ট করে। কয়েক দিন ধরে রোদ উঠলেও বাচ্চাদের কাপড় শুকানো যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে চুলার আগুনের তাপে বাচ্চাদের কাপড় শুকাচ্ছি।
৭২ বছর বয়সের বৃদ্ধ হাসেম আলী বলেন, শীতের কারণে খুবই সমস্যায় আছি। বয়স্ক মানুষের রাতে চলাফেরা করতে পারে না। কাজ-কাম করতে পারে না। শীতে রোগ বালাইও বেড়ে যায়।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, বর্তমানে জেলার উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সামনে তাপমাত্রার আরও কমতে পারে।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে এ পর্যন্ত জেলায় শীতবস্ত্র হিসেবে ১৬ হাজার পিস কম্বল, সোয়েটার-জ্যাকেট ও শিশুর পোশাক বিতারণ করা হয়েছে।

এদিকে শীতার্ত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে শীতবস্ত্র নিয়ে এগিয়ে এসেছে ‘দিনাজপুর সমাজ কল্যাণ সংস্থা’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৪ দিন থেকে আজ রোববার দুপুর পর্যন্ত শহরে পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে প্রায় ৮ হাজার দরিদ্র মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। 

সংগঠনের উপদেষ্টা ও দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মোস্তফা কামাল মিলন বলেন, প্রচণ্ড শীতে মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। খড়কুটো ও কাগজ জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। শীতার্ত জনগোষ্ঠীর জন্য রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনকে এগিয়ে আসতে হবে।