বাসস
  ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:২৪

নির্বাচনে সহিংসতা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশকে বডিওর্ন ক্যামেরা দেওয়া হবে : রংপুরে আইজিপি

আইজিপি বাহারুল আলম আজ দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলার বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ অফিসার ও সদস্যদের সাথে একটি বিশেষ কল্যাণ সভায় অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। ছবি : বাসস

রংপুর, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, আগামী নির্বাচনে সহিংসতা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বডিঅন ক্যামেরা দেওয়া হবে।

আজ দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলার বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ অফিসার ও সদস্যদের সাথে একটি বিশেষ কল্যাণ সভায় অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, সারা দেশে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে যাতে কোনো সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা না হয় সেজন্য পুলিশ সদস্যদের বডি অন ক্যামেরা দেওয়া হবে। যা দিয়ে সবকিছু তদারকি করা সম্ভব হবে।

বাহারুল আলম বলেন, একটা অবাধ, সুষ্ঠু, উৎসব মুখর পরিবেশে নির্বাচন করার উদ্যোগ নির্বাচন কমিশন নিয়েছে। পুলিশের দায়িত্ব সকল ধরনের সহায়তা করা এবং সকল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এ ব্যাপারে এই রেঞ্জের ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সকলেই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। স্থিতিশীল রেখে নির্বাচনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা এটা আমাদের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, নির্বাচনে পুলিশ শুধু একা না। নির্বাচনের দিন পুলিশের সাথে ছয় লাখ আনসার সদস্য থাকবে। এখন নির্বাচন পূর্ব অবস্থায় আপনারা জানেন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা আমাদের সাথে আছেন। বর্ডার গার্ড এবং নেভি উপকূলীয় অঞ্চলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

আইজিপি বলেন, বিগত ১৫ বছরে পুলিশ দলীয় পুলিশ হিসেবে গড়ে উঠেছিল। নানান ধরনের বিচ্যুতি ছিল আমাদের মধ্যে। আমরা অনেক গণবিরোধী কাজ করেছি। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে জুলাই আগস্ট মাসে যে দুঃখজনক ঘটনাগুলো ঘটেছে, বিপুল পরিমাণ আন্দোলনকারী শহীদ হয়েছেন প্রাণ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, এসব ঘটনার ফলে পুলিশের যারা লোভী, দলকানা কিছু নেতৃবৃন্দ এবং সদস্যের কারণে আমাদের ওপরে যে দায়ভার এসেছে, এগুলো থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ পুলিশকে আবার স্বমহিমায় দাঁড় করানো, তাদের মনোবল বৃদ্ধি করে তাদেরকে আবার তাদের কাজে ফিরিয়ে আনা এই গত এক বছরে আমরা এটা চেষ্টা করেছি। আমরা বলবো না আমরা শতভাগ সফল হয়েছি, তবে আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই।’

শতভাগ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কোনো জায়গায় করা যায় না জানিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেন, ‘অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এটা শতভাগ তো কোনো জায়গায় করে ফেলা যায় না। আমাদের দেশের গত ১০-১৫-২০ বছরের অপরাধ পরিসংখ্যান যদি নেন, প্রতি বছরই সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার হত্যা সংঘটিত হয়ে থাকে। আমাদের অবশ্যই চেষ্টা থাকবে একজন লোকও যেন মারা না যায়। সেটা আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, আপনারা জানেন শহীদ ওসমান হাদির মৃত্যু আমাদেরকে, সারা জাতিকে উদ্বেলিত করেছে। আমাদের উপরে দায়ভার এসেছে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার করার।

অনুষ্ঠানে পুলিশের রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলীসহ বিভাগের ৮ জেলার পুলিশ সুপারসহ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।