শিরোনাম

শেরপুর, ১০ জানুয়ারি, ২০২৫ (বাসস) : শেরপুরে শেষ হলো প্রায় দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা।
গতকাল শুক্রবার শেরপুর পৌরসভাধীন নবীনগর মহল্লার রোয়া বিলে মেলা দেখতে জড়ো হয়েছিল বিভিন্ন শ্রেণি পেশার হাজারো মানুষ।
এই মেলায় ঘোড়দৌড় ও গাঙ্গি খেলা সবচেয়ে জনপ্রিয়। এই খেলা দেখতে অনেক মানুষ ভিড় জমায়। মেলাকে ঘিরে শেরপুর শহরের নবীনগরসহ আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
সরেজমিনে গতকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) মেলা ঘুরে দেখা যায়, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী মুড়কি-মুড়ি, মোয়া, নিমকি, গজা, কলাই, বাদাম, কটকটি, তিলের খাজাসহ নানা ধরনের খাবার, প্লাস্টিক ও মাটির তৈরি শিশুদের বিভিন্ন খেলনা, নারীদের বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী এবং গৃহস্থালী পণ্যের পসরা বসেছে।
এছাড়া মেলা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে ঘোড়দৌড়, সাইকেল রেস, গাঙ্গি খেলা ও নারীদের মিউজিক্যাল চেয়ারসহ গ্রামীণ বিভিন্ন খেলা ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে মেলা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আয়োজকদের দাবি, প্রায় দুইশত বছর ধরে নবীনগর এলাকায় এ মেলা হয়ে আসছে। পূর্বপুরুষদের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন তারাও। প্রতিবছর বোরো আবাদের আগেই এ মেলার আয়োজন করা হয়।
এদিকে মেলার আশেপাশে স্থানীয় গ্রামবাসীর ঘরে ঘরে চলে নতুন আমন ধানের চালের পিঠা-পায়েশ খাওয়ার উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে প্রতি বাড়িতেই দূর-দূরান্তের আত্মীয়রা ছুটে আসেন পিঠা খেতে এবং মেলা দেখতে।
ঢাকা থেকে আসা সুইটি আক্তার জানান, আমার বাবার বাড়ি শেরপুরে। প্রতিবছর এই দিনে আমি মেলায় পরিবারসহ অংশগ্রহণ করি। আমরা শুনেছি এ মেলা প্রায় দুইশত বছরের পুরোনো।
নবীনগরের আকলিমা জান্নাত বলেন, আমার স্বামীসহ এ মেলায় ঘুরতে এসেছি। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী নানা ধরনের খেলাধুলা দেখে খুবই আনন্দ লেগেছে। এ মেলায় কিছু কেনাকাটাও করেছি।
শেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা বলেন, প্রায় দুইশত বছর ধরে এই পৌষ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তাই বাবা-দাদার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই প্রতিবছর মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। পরের বছর কমিটি গঠন করে আরও বড় আকারে দুই দিনব্যাপী মেলা আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আয়োজক কমিটির সভাপতি পারভেজ আহম্মেদ জানান, প্রায় দুইশত বছর ধরে চলে আসা এ ঐতিহ্যবাহী মেলা ধরে রাখার জন্য প্রতি বছরই আয়োজন করা হয়ে থাকে। আগামীতে এ মেলা দুই দিনব্যাপী করার প্রত্যয় মেলা উদযাপন কমিটির।