শিরোনাম

ঢাকা, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আজ বলেছেন, বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার স্থগিতের বিষয়টি অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটির সঙ্গে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত, ক্রয় প্রক্রিয়া কিংবা বৃহত্তর আর্থিক কার্যক্রমের কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতিতে এর কোনো প্রভাবই পড়েনি। আমাদের আন্তর্জাতিক দরপত্র ও ক্রয় কার্যক্রম স্বচ্ছ ও স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়। খেলাধুলা বা এ ধরনের বিষয় আমাদের আলোচনায় একেবারেই ওঠেনি। আমার দৃষ্টিতে এই বিষয়টির সঙ্গে আমাদের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক নেই।’
আজ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির পৃথক দুটি সভায় সভাপতিত্ব শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানও গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেন।
অর্থ উপদেষ্টা ও জ্বালানি উপদেষ্টা উভয়েই ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান ও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)-কে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াকে ‘দৃঢ় ও যথাযথ’ বলে অভিহিত করেন।
দুই উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং খেলাধুলা, বাণিজ্য ও কূটনীতি যেন অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই চলতে পারে, সে বিষয়েও দেশটি সচেষ্ট। তারা এ ইস্যুতে দেশের অর্থনীতি বা বাণিজ্যে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নাকচ করেন।
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, এই বিতর্কের সূত্রপাত বাংলাদেশ থেকে নয়। মোস্তাফিজুর রহমান একজন বিশ্ব স্বীকৃত খেলোয়াড় এবং কার্যত দেশের একজন ক্রীড়া দূত।
তিনি বলেন, ‘এটা বাংলাদেশ থেকে শুরু হয়নি। মোস্তাফিজ খুব ভালো ও খ্যাতিমান খেলোয়াড়। তাকে যারা নিয়েছে তারা পর্যালোচনা করেই নিয়েছে, তাকে তো দয়া-দাক্ষিণ্য করে নেওয়া হয়নি। ওরা সেটা হঠাৎ করে বন্ধ করে দেবে, সেটা তো খুব দুর্ভাগ্যজনক। এটা দুই দেশের কারও জন্য ভালো হয়নি।
তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা আদর্শগতভাবে রাজনীতি থেকে আলাদা থাকা উচিত এবং আবেগকে অযথা উত্তেজনায় পরিণত হতে না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না এটি দুই দেশের সম্পর্ককে জটিল করে তুলুক। ইতিহাসে দেখা গেছে, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও খেলাধুলা চলেছে-অলিম্পিকের ক্ষেত্রেও তাই। দুই পক্ষেই এটি আবেগের বিষয়, কিন্তু আমাদের সংযমের সঙ্গে এগোতে হবে।’
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, সরকারের অবস্থান ছিল পরিমিত ও যুক্তিসঙ্গত এবং অন্য পক্ষের প্রাথমিক পদক্ষেপের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এটি এসেছে।
তিনি বলেন, ‘সবসময়ই একটি ক্রিয়া ও একটি প্রতিক্রিয়া থাকে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যেন কেউ মাত্রা ছাড়িয়ে না যায়। যখন একজন বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে ডাকা হয় এবং হঠাৎ করে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, তখন একটি প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশিতই। আমি মনে করি প্রতিক্রিয়াটি যথাযথ, দৃঢ় ও উপযুক্ত ছিল।’
তিনি আরও বলেন, আইপিএল সম্প্রচার ও আসন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল স্পষ্ট কিন্তু সংযত।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘এই প্রতিক্রিয়া শুধু ন্যায্যই নয়, এটি অন্য পক্ষকে ভাবতেও বাধ্য করছে। ভারতের ভেতর থেকেও খেলাধুলাকে রাজনৈতিকীকরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।’
ভারতীয় সংসদ সদস্য শশী থারুরের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ফাওজুল কবির খান বলেন, আঞ্চলিক সৌহার্দ্য ও ক্রিকেটের চেতনার স্বার্থে এ ধরনের পদক্ষেপ এড়ানো উচিত।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, যেখান থেকে এই বিষয়টির সূচনা হয়েছে, সেখান থেকে সুবিবেচনার পরিচয় দেওয়া হবে। ক্রিকেট চলবে, একই সঙ্গে আমাদের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও অব্যাহত থাকবে।’
সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ কোনো প্রতিক্রিয়াশীল বা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়নি বরং ভারসাম্যপূর্ণভাবেই সাড়া দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কিছুই শুরু করেনি। একজন শীর্ষ খেলোয়াড়কে হঠাৎ করেই বাদ দেয়া হয়েছে। আমরা যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছি, তা ছিল সম্পূর্ণ দৃঢ় ও পুরোপুরি উপযুক্ত। এটি নিউটনের তৃতীয় সূত্রের প্রতিফলন-প্রতিটি ক্রিয়ারই একটি প্রতিক্রিয়া আছে।’
তিনি আরও বলেন, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গনের ব্যক্তিত্বরা প্রায়ই রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করেন, বিশেষ করে যখন আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক যোগাযোগে চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়।
তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়, লেখক, কবিরা-তারা সদিচ্ছার দূত হিসেবে কাজ করেন। সে কারণেই এসব বিষয় সংবেদনশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করা উচিত।’