বাসস
  ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১০:২০

বগুড়ায় হানি ট্র্যাপ চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

বগুড়ায় হানি ট্র্যাপ চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: বাসস

বগুড়া, ২৯ আগস্ট ২০২৫ (বাসস): বগুড়ায় হানি ট্র্যাপে ফেলে দুই ব্যক্তিকে একটি ফ্ল্যাটে জিম্মি করে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) টিম অভিযান চালিয়ে জিম্মিদের উদ্ধার করে। একইসঙ্গে আলোচিত কারাবন্দি তুফান সরকার ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মতিন সরকারের ভাইসহ চক্রের সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে শহরের চকসূত্রাপুর শহীদ বিলু সড়কের রহমান ভিলার পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে জিম্মিদের উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-চেলোপাড়ার মহসিন কাজি সিজান (২৫), চকসূত্রাপুর চামড়া পট্টির মতিন সরকারের ভাই ওমর সরকার (৩৫), কেয়া বেগম (৩৩), আফসানা মিমি (২৪), কামরুন্নাহার অধোরা (২২), এনামুল হোসেন ওরফে রায়হান (২৭) ও নয়ন হোসেন (৩৫)। 

এ সময় জিম্মিদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া ৫ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। 

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মহসিন কাজি সিজানের বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিশেষ ক্ষমতা আইন, চুরি ও মারামারিসহ ৬টি মামলা, এনামুল হোসেন রায়হানের বিরুদ্ধে অপহরণ, চুরি ও মারামারিসহ ৬টি মামলা, আলোচিত  ওমর সরকারের বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি, মারামারি ও মাদকসহ ৬টি মামলা এবং নয়ন হোসেনের বিরুদ্ধে ১টি মাদক মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে।

ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ ইকবাল বাহার জানান, জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার ফজলুর রহমান (৪৪) মাসখানেক আগে তার মেয়ের চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এলে কেয়া বেগমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে মোবাইল নম্বর বিনিময় করা হয়। 

গত বৃহস্পতিবার সকালে কেয়া ফোন করে ফজলুর রহমানকে বগুড়া শহরের তিনমাথা এলাকায় আসতে বলেন। তিনি এলে কেয়া ও সহযোগীরা তাকে চকসূত্রাপুরের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে আটকে রাখে। কিছুক্ষণ পর তার এক সহযোগীকেও সেখানে ডেকে আটকিয়ে রাখা হয়।

ইকবাল বাহার আরও জানান, ভুক্তভোগীদের মারধর করে কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়া হয়। পরে তাদের উলঙ্গ করে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে চক্রটি। জিম্মিদের পরিবার বিষয়টি ডিবিকে জানালে পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে উদ্ধার ও সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। 

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের আজ শুক্রবার আদালতে পাঠানো হবে।