বাসস
  ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:০৯

পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে বিশেষায়িত সংস্থা গঠনের বিষয়টি বিবেচনাধীন : অর্থমন্ত্রী

ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

সংসদ ভবন, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : বিদেশে পাচার করা সম্পদ দক্ষ ও কার্যকরভাবে উদ্ধারের লক্ষ্যে অন্যান্য দেশের আদলে বাংলাদেশে একটি বিশেষায়িত সংস্থা গঠনের বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের অনুসরণে পাচার করা সম্পদ উদ্ধারের কার্যক্রম দক্ষ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশে একটি বিশেষায়িত সংস্থা গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।’

জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য মো. জালাল উদ্দিনের (চাঁদপুর-২) এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আজ এ কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, আগের ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের সময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদেশে পাচার করা অর্থ দেশে ফেরত আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

তিনি জানান, টাস্কফোর্সের সুপারিশের ভিত্তিতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর আওতায় ১১টি অগ্রাধিকার মামলা চিহ্নিত করা হয়েছে।

মামলাগুলোর মধ্যে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার, নাবিল গ্রুপ, এইচ বি এম ইকবাল এবং সামিট গ্রুপ সংশ্লিষ্ট মামলা রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব মামলা তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে ১১টি জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম (জেআইটি) গঠন করা হয়েছে। এসব দলে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) এবং কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘জেআইটি গঠনের পর ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশে ও বিদেশে আদালতের মাধ্যমে মোট প্রায় ৭৬ হাজার ৯৮৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দ ও ফ্রিজ করা হয়েছে।’

আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশি আদালতের দেওয়া আদেশ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে ২৩টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত পাচার করা অর্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে মোট ১৪২টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং ছয়টি মামলার রায় হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত ১০টি দেশের সঙ্গে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রিটি (এমএলএটি) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশগুলো হলো—কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড এবং হংকং-চীন।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়া ও হংকং-চীনের সঙ্গে এমএলএটি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

সম্পদ উদ্ধারের কার্যক্রমে সমন্বয় জোরদার করতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) অধীনে ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ডিভিশন’ ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকেও বাংলাদেশ পরামর্শ, কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (আইএসিসিসি), বিশ্বব্যাংকের স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি (স্টার) ইনিশিয়েটিভ, জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয় (ইউএনওডিসি), ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাসেট রিকভারি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।

এছাড়া বাংলাদেশ অ্যান্টি-করাপশন ল’ এনফোর্সমেন্ট অথরিটিজের গ্লোবাল অপারেশনাল নেটওয়ার্ক (গ্লোবই নেটওয়ার্ক) এবং অ্যাসেট রিকভারি ইন্টারএজেন্সি নেটওয়ার্ক-এশিয়া প্যাসিফিক (এআরআইএন-এপি)-এ যোগ দিয়েছে বলে জানান তিনি।