শিরোনাম
সংসদ ভবন, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে এবং তাদের কোনো ধরনের দায়মুক্তি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, কোনো কোম্পানির শুধু মালিক বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেই ওই কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়া হবে না।
আজ জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের (নোয়াখালী-৬) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আইনগত সত্তা এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত দায়— এই দু’টি বিষয়কে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, 'অর্থনীতি ও আর্থিক খাত পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু নীতি রয়েছে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সত্তা কোনো ব্যক্তির সত্তা থেকে পৃথক।'
তিনি বলেন, দুর্নীতির অভিযোগে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে বিচারের আওতায় আনা যেতে পারে। তবে কোম্পানির কার্যক্রম আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। কারণ, একটি কোম্পানি একটি স্বতন্ত্র আইনগত সত্তা।
তিনি বলেন, 'কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে এবং তাকে বিচারের আওতায় আনা যাবে। কিন্তু কোম্পানি একটি আইনগত সত্তা।’
আমির খসরু বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণে একটি কোম্পানি বন্ধ করে দিলে এর ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি বলেন, 'এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে কর্মচারী, ঋণদাতা, ঋণ পরিশোধ এবং অর্থনীতিতে কোম্পানিটির অবদান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।'
অর্থমন্ত্রী বলেন, 'কোম্পানির কর্মচারী আছে, দায়-দেনা আছে। তাদের ঋণ পরিশোধ করতে হয় এবং অর্থনীতিতে তাদের অবদান রয়েছে।'
তিনি জোর দিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত আবেগের ভিত্তিতে নয়, আইন ও প্রতিষ্ঠিত আর্থিক নীতির ভিত্তিতে নিতে হবে।
তিনি বলেন, 'আবেগ দিয়ে অর্থনীতি পরিচালনা করা যায় না; আইন অনুযায়ী তা পরিচালনা করতে হয়।'
বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি কোম্পানিকে ঋণসংক্রান্ত সুবিধা দিয়ে আইন লঙ্ঘন করছে— এমন অভিযোগও নাকচ করেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ ব্যাংক আইন লঙ্ঘন করে কাউকে ঋণ দিচ্ছে না।'
অর্থমন্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানে সুযোগ থাকলেই কোনো কোম্পানি ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের সুবিধা পেতে পারে।
তিনি বলেন, 'আইনে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ থাকলে যোগ্য কোম্পানিগুলো তা নিতে পারবে। যারা যোগ্য নয়, তারা এই সুবিধা নিতে পারবে না।'
আমির খসরু বলেন, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সরকার কোনোভাবেই সুরক্ষা দিচ্ছে না।
তিনি বলেন, 'দুর্নীতিতে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে এবং মামলাগুলো চলবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি কার্যক্রম চালু রাখলেও ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং কোম্পানির বকেয়া দায় পরিশোধের স্বার্থে আইনসম্মতভাবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোম্পানির কার্যক্রম চালু রাখা প্রয়োজন হতে পারে।
একই সঙ্গে দুর্নীতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, সরকার এক্ষেত্রে দু’টি বিষয় পৃথকভাবে বিবেচনা করছে—আইনসম্মতভাবে প্রয়োজন হলে কোম্পানিগুলোকে তাদের বৈধ অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং দুর্নীতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কেবল প্রচলিত আইনের আওতায় থেকেই ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধা দিতে পারে।
তিনি বলেন, 'আইনে যে সুযোগ রয়েছে, যোগ্য কোম্পানিগুলো তা নিতে পারবে। যারা যোগ্য নয়, তারা তা নিতে পারবে না।'
তিনি বলেন, সরকার আর্থিক খাত পরিচালনায় আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক নীতি অনুসরণ করবে এবং একই সঙ্গে অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে।