বাসস
  ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪৯
আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৫৫

প্রয়োজনে শুক্রবারও ২ বেলা অধিবেশন বসতে পারে : চীফ হুইপ

জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে অধিবেশনের বিরতিতে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেন। ছবি : বাসস

সংসদ ভবন, ৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, সংসদ বর্তমানে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩ অনুযায়ী নির্ধারিত ৩০ দিনের সময়সীমার মধ্যে ১৩৩টি অধ্যাদেশ পাশ করার চাপে রয়েছে। ইতোমধ্যে ৪৪টি অধ্যাদেশ পাশ করা হয়েছে। দ্রুত অগ্রগতির জন্য একাধিক অধ্যাদেশকে একীভূত করে বিল আকারে উত্থাপন করা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়সীমার ভিতর অধ্যাদেশগুলো পাশ করার জন্য সংসদে বসবে অতিরিক্ত অধিবেশন; প্রয়োজনে শুক্রবারও  দুই বেলা অধিবেশন বসতে পারে।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে অধিবেশনের বিরতিতে গণমাধ্যমে ব্রিফিংকালে চীফ হুইপ এসব কথা বলেন।

সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে চীফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সম্ভাব্য ৩৬টি আসন পাবে; যা জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে, সংসদে কার্যকর অংশগ্রহণের সক্ষমতার ভিত্তিতে এবং দীর্ঘ গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সমাজের সকল স্তরের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চূড়ান্ত মনোনয়ন দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

তিনি বলেন, সংসদের সাউন্ড সিস্টেমে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অদক্ষ প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া, নির্ধারিত স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এ বিষয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে; চলমান অধিবেশন ব্যাহত না করতে তা অধিবেশন শেষে কার্যকর করা হবে।

সন্ত্রাস বিরোধী আইনের বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে চীফ হুইপ বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক দর্শন প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতি পরিহারের দর্শন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা ভালোবেসে মানুষের হৃদয় জয় করবো।’ তারেক রহমান মনে করেন তিনি বাংলাদেশের সব মানুষের প্রধানমন্ত্রী। যারা তাঁকে ভোট দিয়েছে এবং ভোট দেয় নাই উনি সবারই প্রধানমন্ত্রী। আইনের শাসনের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং কেউ অপরাধী প্রমাণিত হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিচার হবে, দল বিবেচনায় নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না।”

চীফ হুইপ আরও উল্লেখ করেন, নতুন এই সংসদে অনেক সদস্যই দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম, কারাবরণ ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছেন এবং তারা এখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।