শিরোনাম

।। আবু নাঈম।।
পঞ্চগড়, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : রাষ্ট্রহীনতার জীবন পেরিয়ে ২০১৫ সালে নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন তারা। ভোটার তালিকায় নাম ওঠে, হাতে আসে জাতীয় পরিচয়পত্র। তবে স্বাচ্ছন্দ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ মিলেনি এখনো। দেখা হয়নি উৎসবমুখর, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। এবার সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চান পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ছিটমহল এলাকার মানুষ।
ছিটমহল বিনিময়ের পর দেশে দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে- ২০১৮ ও ২০২৪ সালে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দুই নির্বাচনই ছিল একতরফা ও বিতর্কিত। ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে ছিল ‘রাতের ভোটের’ অভিযোগ। আর ২০২৪ সালের নির্বাচন ছিল কার্যত অংশগ্রহণহীন। ফলে ভোটকেন্দ্রে গেলেও ভোটের আনন্দ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ উপভোগ করতে পারেননি সাবেক ছিটমহলবাসী।
এবার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করেছে। পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের সাবেক গাড়াতি ছিটমহল এলাকায় এখন ভোট নিয়ে আগ্রহ, আলোচনা ও প্রত্যাশা চোখে পড়ছে। দীর্ঘদিন পর একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখার আশা করছেন এখানকার মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ভোটার হওয়ার প্রায় এক দশক পর এবারই তারা প্রকৃত অর্থে একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন দেখবেন বলে আশাবাদী।
বিলুপ্ত গাড়াতি ছিটমহল এলাকার আব্বাস আলী বলেন, ভোটার হবার পর দুইটি জাতীয় নির্বাচন হয়েছে। একটি ছিল রাতের ভোট, আরেকটি একতরফা ডামি নির্বাচন। আমি ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিতে যাইনি। এবার মনে হচ্ছে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হবে, সেই প্রতীক্ষায় রয়েছি।
একই এলাকার শাহাদাত হোসেন বলেন, ছিটমহল বিনিময়ের পর ভোটার হয়েছি, কিন্তু সঠিক ভোটাধিকার পাইনি। এবার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চাই।
বিলুপ্ত এই ছিটমহলের ঝাকুয়াপাড়া এলাকার মমিনুল ইসলাম বলেন, ছিটমহল বিনিময়ের পর এলাকার যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে। রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সব পেয়েছি, শুধু সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ পাইনি। এবার পরিবেশ ভালো হবে বলে আশা করি। আর যারা ক্ষমতায় আসবেন তারা বিলুপ্ত ছিটমহলের দিকে নজর রাখবেন- এই প্রত্যাশা করছি।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে আমরা বদ্ধপরিকর। ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে যেন ভোট দিতে পারবেন- সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।