বাসস
  ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:১০

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ৩৪ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা 

ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ইসলামি রাজনৈতিক সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তাদের ৩৪ দফা নির্বাচনী ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। এ সময় গণভোটে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

রোববার দুপুর ১২টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নির্বাচন মনিটরিং সেলের আহ্বায়ক মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।

দলের সহ-সভাপতি মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও নির্বাচন মনিটরিং সেলের সদস্য সচিব মাওলানা বাহাউদদীন যাকারিয়া, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাসউদুল করিম, মাওলানা মতিউর রহমান গাজীপুরী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি নাছির উদ্দিন খান, প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মাওলানা মাহবুবুল আলম কাসেমী, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন, মাওলানা নুরুল আলম ইসহাকী, মাওলানা সলিমুল্লাহ, আখতারুজ্জামান তালুকদার, আলহাজ্ব আব্দুল আহাদ ও মাওলানা নূর হোসাইন সবুজসহ দলের নেতৃবৃন্দ।

ইশতেহারে ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, সামাজিক ন্যায়বিচার, সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সংস্কার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী বলেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ৩৪ দফা ইশতেহার দেশের নৈতিক অবক্ষয় রোধ, সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি ইনসাফভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের বাস্তবসম্মত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, এই ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে এবং দেশ শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হবে।

ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য দফাগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা শক্তিশালীকরণ, কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি, আলেম-ওলামা ও কওমি মাদরাসার মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষা, আলিয়া মাদরাসা, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিতকরণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং জাতীয় ঐক্য জোরদার করা।

বিশেষভাবে ইশতেহারে জাতীয় আত্মরক্ষা ও স্বাধীনতার চেতনা জোরদারে প্রাপ্তবয়স্ক সকল নাগরিককে পর্যায়ক্রমে আত্মরক্ষামূলক ও প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগ, আগ্রাসন বা জাতীয় সংকটকালে প্রতিটি নাগরিক যেন স্বাধীনতার প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ দেশবাসীকে এই ইশতেহারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং আসন্ন নির্বাচনে জনগণের সমর্থন প্রত্যাশা করেন।