বাসস
  ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:০৪

রাজশাহীতে জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রচারণা; সবার প্রত্যাশা সুষ্ঠু নির্বাচন

ছবি : বাসস

ওমর ফারুক

রাজশাহী, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যস্ততা বেড়েছে বহুগুণ। ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে রাজশাহী মহানগরী ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও অলিগলি। প্রতিদিনই উঠান বৈঠক, গণসংযোগ, পথসভা ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন প্রার্থীরা।

রাজশাহী জেলার ছয়টি আসন-রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী), রাজশাহী-২ (সদর), রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর), রাজশাহী-৪ (বাগমারা), রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) এবং রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট)—সবকটিতেই বইছে নির্বাচনি হাওয়া। বিএনপি ও জামায়াত প্রধান দুই দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বহুমাত্রিক। দীর্ঘদিন নাগরিকরা ভোট দিতে না পারায় এবার এই ভোটের প্রচার-প্রচারণা উৎসবে পরিণত হয়েছে। 

রাজশাহী-২ এ প্রচারণা সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও জনসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। অন্যদিকে, গ্রামীণ আসনগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়া, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রার্থীরা।

ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা, সেচ ও কৃষি উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার এই বিষয়গুলোই এবারের নির্বাচনে রাজশাহীর মানুষের প্রধান প্রত্যাশা। তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রার্থীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে। যা প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

নির্বাচনি পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আচরণবিধি বাস্তবায়নে মাঠে রয়েছে ভ্রাম্যমাণ টিম।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে রাজশাহীর ছয়টি আসনেই এখন নির্বাচনি উত্তাপ চরমে। শেষ মুহূর্তের প্রচারণা ও কৌশলই নির্ধারণ করবে কে হাসবে বিজয়ের হাসি, আর কার ভাগ্যে জুটবে অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস। ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহীর রাজনীতির মাঠ আরও সরগরম হয়ে উঠছে।

রাজশাহী-১ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, এই আসনের অনেকগুলো সম্ভাবনাময় দিক রয়েছে। আমরা সুযোগ পেলে সবগুলোকে ব্যবহার করে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করব। প্রচার প্রচারণায় এখন ব্যস্ত সময় কাটছে। আমরা চাই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাররা তাদের ভোট দিতে পারে। 

রাজশাহী-২ (সদর) আসনের বিএনপি প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু বাসসকে বলেন, আমরা এখানে সহাবস্থানে নির্বাচন করছি। ভাই ভাইয়ের নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচনের দিন যাতে সুষ্ঠু ভোট হয় এবং জনগণ যাতে সেই ভোট নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা সরকারের পক্ষ থেকে করতে হবে। সুষ্ঠু ভোট হলে বিজয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।

রাজশাহী-২ (সদর) আসনের জামায়াতের এমপি পদপ্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটছে। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু হয় এই ব্যবস্থা করার জন্য নির্বাচন কমিশনারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। 

রাজশাহী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, এ নির্বাচন জনগণের বহুল প্রতীক্ষিত একটি নির্বাচন। আমরা চাই একটি সুন্দর এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। আমিসহ আমার নেতাকর্মীরা সবাই এখন প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছে। ভোট সুষ্ঠু হলে বিজয় সুনিশ্চিত। 

রাজশাহী-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা গণসংযোগ এবং নির্বাচনি প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছি। জনগণ যাতে সুষ্ঠভাবে ভোট দিতে পারে এই এই ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করবে এই প্রত্যাশা রাখছি। 

রাজশাহী-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান বলেন, আমাদের প্রচার-প্রচারণা ভালো চলছে। 

সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন ভোটের পরিবেশ চাই। 

রাজশাহী-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত প্রচার প্রচারণা ভালো চলছে। আমার কাছে মনে হয় লেভেল  প্লেয়িং ফিল্ড রয়েছে। ভোটের দিন সুষ্ঠু ভোট হবে বলে আশা করছি। 

রাজশাহী-৬ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নাজমুল হক বলেন, দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বিঘ্নেই প্রচার-প্রচারণা চালানো যাচ্ছে। ভোটের দিনের পরিবেশ সুষ্ঠু ও সুন্দর চাই। যাতে ভোটাররা তাদের ভোট পছন্দের প্রার্থীকে দিয়ে নির্বাচিত করতে পারে। সুষ্ঠু ভোট হলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। 

রাজশাহী-৬ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুস সালাম সুরুজ বলেন, নির্বাচনি প্রচার প্রচারণায় আমাদের আসনে এখনও কোনো সমস্যা হয়নি। ভোটের দিন পর্যন্ত এই অবস্থা থাকলে আশা করি বিজয় পাব। 

সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে যাতে ভোট অনুষ্ঠিত হয় সেই কামনা করছি। 

প্রসঙ্গত, রাজশাহী জেলায় মোট ভোটার ২২ লাখ ২৯ হাজার ১১৮ জন। এরমধ্যে নারী ভোটার ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৬২৯ জন ও পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৫৯ জন। হিজরা ভোটার রয়েছে মোট ২৮ জন। ভোট কেন্দ্র ৭৭৭৮ টি। 

রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান বলেন, প্রার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারে সেজন্য আমাদের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এরপরে যদি কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কোনো অভিযোগ করা হয়, সে ব্যাপারেও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সুস্থ এবং সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্য জেলা পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।