শিরোনাম

রাজশাহী, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে।
এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
পবা ও মোহনপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৩ আসনে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখের বেশি। মোট পাঁচজন প্রার্থী এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন-বিএনপির অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় পার্টির আফজাল হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফজলুর রহমান এবং আমজনতার দলের সাঈদ পারভেজ।
বিএনপি ও জামায়াত-মনোনীত প্রার্থীরা ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ফলে নির্বাচনী সমীকরণ ক্রমেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে। ঘরে ঘরে প্রচারণা, উঠান বৈঠক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে উভয় দলই তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে কাজ করছে।
বিএনপি অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনকে আবারও মনোনয়ন দিয়েছে, যিনি এলাকায় সুপরিচিত ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তার মনোনয়ন দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্যরাও প্রকাশ্যে মিলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
দলের ভোটব্যাংক ও শক্তিশালী সাংগঠনিক নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করে মিলন বাজার, গ্রাম ও মহল্লায় ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
নিজের প্রচারণায় তিনি উন্নয়ন বৈষম্য কমানো, কৃষি ও ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ এবং স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদও সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আজাদ পবা উপজেলার হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে টানা ২৮ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কারণে তিনি পবা ও মোহনপুর উভয় উপজেলায় পরিচিত মুখ।
স্থানীয় জামায়াত নেতাদের বিশ্বাস, ধর্মীয় ও সামাজিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত থাকার কারণে আজাদের একটি নিবেদিত ভোটারগোষ্ঠী রয়েছে। তার প্রচারণায় গুরুত্ব পাচ্ছে উন্নয়ন, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি, বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিশ্রুতি।
এদিকে নির্বাচন ঘিরে ভোটাররাও তাদের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। দুই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দারা বলেছেন, তারা সেই প্রার্থীকে ভোট দেবেন, যিনি কৃষিনির্ভর এসব এলাকায় তৃণমূল উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবেন।
বড়গাছি ইউনিয়নের কালুপাড়া গ্রামের সাইনুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা-ঘাটের বেহাল অবস্থার কারণে তাদের এলাকায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর রাস্তা-ঘাটের তেমন উন্নয়ন হয়নি। আমরা সেই প্রার্থীকে ভোট দেব, যিনি আমাদের কথা শুনবেন এবং আমাদের রাস্তা-ঘাটের উন্নত করবেন।’
মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ এলাকার দিনমজুর রহিম আলী একই ধরনের অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘অনেক এমপি-মন্ত্রী এসেছেন-গেছেন, কিন্তু আমাদের অবস্থা বদলায়নি। আমরা এমন একজন এমপি চাই যিনি সত্যিই আমাদের এলাকার উন্নয়ন করবেন, বিশেষ করে রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন করবেন।’
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী উভয়েই বলেছেন, তারা নির্বাচিত হলে পবা-মোহনপুরের সামগ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবেন।
‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘জনগণ পরিবর্তন চায়। আমাদের দল একটি ইশতেহার ঘোষণা করেছে। পবা-মোহনপুরের উন্নয়নের জন্য আমারও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।’
‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপির প্রার্থী শফিকুল হক মিলন বলেন, এই আসনের জনগণের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে আমি শাহ মখদুম বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার উদ্যোগ নেব এবং স্থানীয় কৃষিপণ্য সরাসরি রপ্তানির ব্যবস্থা করব।’ নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী
সামগ্রিকভাবে রাজশাহী-৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে, যেখানে ভোটাররা প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি, বক্তব্য ও তৃণমূল কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনটি প্রার্থীদের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে প্রতিশ্রুতির প্রতি ভোটারদের আস্থার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।