শিরোনাম

সংসদ ভবন, ১১ জুন, ২০২৬ (বাসস) : আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জন্য ২ হাজার ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আজ জাতীয় সংসদে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জন্য সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আইসিটি এবং টেলিকম একটি বিপুল সম্ভাবনাময় সেক্টর। এ সেক্টর হতে পারে আগামী দিনে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি। অথচ বর্তমানে দেশের জিডিপিতে এ খাতের অবদান মাত্র ১-২ শতাংশ। যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে তা ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, ওয়্যারলেস ও ওয়্যারলাইন কানেক্টিভিটি সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, ওয়ান সিটিজেন-ওয়ান আইডি-ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবস্থা চালুকরণ, বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে এ সেক্টরকে সরকার থ্রাস্ট (অগ্রাধিকার) সেক্টর হিসেবে গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি বলেন, আইসিটি খাতের উন্নয়নের জন্য সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেটের কোনো বিকল্প নেই। থ্রাস্ট সেক্টর হিসেবে গড়ে তুলতে পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম এবং ফাইবার বেইজড কানেক্টিভিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারনেট সেবার মান উন্নয়ন ও বৈশ্বিক মানদণ্ডে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়নসহ ব্যাপক টেলিকম সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্যে মোবাইল অপারেটর এবং ফিক্সড ব্রডব্যান্ড সার্ভিস প্রোভাইডারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে ৯০ শতাংশ মানুষের কাছে ৫জি পৌঁছে দেওয়া এবং ১০০ এমবিপিএস ব্রডব্যান্ড গতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে সরকার ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাংক স্থাপনসহ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে ট্রেন ও বিমানবন্দরগুলোতে উচ্চ গতির ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা চালু করা হয়েছে, যার সুফল জনগণ ইতোমধ্যে ভোগ করছে। উল্লেখ্য, সরকার গত ৪ মাসে ৪১ লাখ নতুন ৪জি মোবাইল সংযোগ এবং ৪ লাখ উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ প্রদান করেছে।