শিরোনাম

চাঁদপুর, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়নপুর বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী ওমর সরকারকে (৪৫) হত্যার দায়ে জয় বিশ্বাস অনিককে (২১) মৃত্যুদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই মামলায় অপর আসামি হৃদয় সূত্রধর (২১)’কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয়) মো. কামাল হোসাইন এই রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জয় বিশ্বাস মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার সুভারিয়া সরকার বাড়ির অর্জুন বিশ্বাসের ছেলে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হৃদয় সূত্রধর মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়নপুর সারপাড় এলাকার গোপাল সূত্রধরের ছেলে। হত্যার শিকার ব্যবসায়ী ওমর সরকার মতলব দক্ষিণ উপজেলার সারপাড় এলাকার শ্রী রবি ভক্তের ছেলে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিনগত রাতে ওমর সরকার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মাধবী শিল্পালয় থেকে বাড়িতে আসার পথে উভয় আসামি যোগসাজসে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে। ওই রাতেই ঘটনাটি আড়াল করার জন্য জয় বিশ্বাস অনিক নিজেই ওমর সরকারকে কে বা কারা হত্যা করেছে এমন সংবাদ পৌঁছায় তার বাবার কাছে। তখন রবি ভক্ত ও তার বড় ছেলে জীবন কৃষ্ণ বাড়ি থেকে প্রায় ৮০গজ দূরে দাস বাড়ির উঠানে তার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি মতলব দক্ষিণ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে ওমর সরকারের বাবা রবি ভক্ত। মামলা হওয়ার পর পুলিশ তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত উল্লেখিত আসামি হৃদয়কে ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং জয় বিশ্বাসকে ২৪ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করে।
মামলার তদন্ত করেন, তৎকালীন মতলব দক্ষিণ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুর রহমান। তিনি মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১০ মে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সালমা বেগম বলেন, মামলাটি চলমান অবস্থায় আদালত ২১ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন। স্বাক্ষ্য গ্রহণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও আসামিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করায় বিচারক এ রায় দেন। রায়ের সময় মৃত্যুতদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জয় বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন এবং অপর আসামি হৃদয় জামিনে গিয়ে পলাতক রয়েছেন।
আসামি পক্ষে সরকার নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন. অ্যাড. শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া।