বাসস
  ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২৩:৪১

খুলনায় ধর্ষণ মামলায় দু’জনের যাবজ্জীবন

খুলনা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : নগরীর দৌলতপুরের ১৪ বছরের কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগে দু’জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের দু’জনকে দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল খুলনা মহানগর, খুলনার বিচারক মুহাম্মদ আকরাম হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী ইকবাল মাহমুদ।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, দৌলতপুর থানার কুলিবাগান রেল কলোনি বস্তির রশিদের বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. সুলতানের ছেলে হিরু ও একই বস্তির বাসিন্দা ফরমান খাঁ’র ছেলে নজু খাঁ। রায় ঘোষণার পর তাদের আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়। 

আদালতের সূত্র জানায়, ওই কিশোরী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। বিদ্যালয় থেকে ফিরে গত ২০১৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর কুলিরবাগান রেল কলোনি বস্তির বাসায় বসে হাত ও পায়ের নখ কাটছিল। হঠাৎ তার পা কেটে যায়। এ সময়ে ওষুধ আনতে আসামি নজু খাঁ’র বাসায় যায়। ঘটনাস্থলে হিরু উপস্থিত ছিল। আসামি নজু খাঁ বলে আমার ঘরে কোনো ওষুধ নেই। বের হয়ে আসার সময় হাত টান দিয়ে ঘরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে ওই দু’জন পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

সূত্রটি আরও জানায়, ওই কিশোরীর মা স্থানীয় একটি জুট মিলের শ্রমিক। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। খবর পেয়ে বাড়িতে ফিরে মেয়েকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। ঘটনার চারদিন পর কিশোরীর মা বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় নজু খাঁ ও হিরুর নামে মামলা দায়ের করেন।

একই বছরের ৩০ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট থানার এসআই শফিকুল ইসলাম উল্লিখিত দুইজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। 

২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তাদের দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গঠন করা হয়। পরবর্তীতে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল সৃষ্টির পর ৯ কার্য দিবস শেষে এ মামলাটি নিস্পত্তি করা হয়।