শিরোনাম

ঢাকা, ৩০ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): রাজধানীর গেন্ডারিয়ার থানার শ্যামবাজারে কাঁচামালের ব্যবসায়ী মো. চুন্নু মিয়াকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. মামুন ও বাবু ওরফে বাঘা বাবু।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকার ৯ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডের পাশাপাশি তাদের ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরো ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বিচার চলাকালে আসামি সজিব মারা যাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ দেন আদালত।
ঢাকার ৯ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকার বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকার শ্যামবাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন সবজি ব্যবসায়ী চুন্নু মিয়া। ২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২ টার দিকে কাঁচামাল কেনার জন্য যাত্রাবাড়ী আড়তে যান।
সেখান থেকে এক বস্তা বেগুন কিনে রিকশায় করে শ্যামবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। ভোর ৫ টার দিকে গেন্ডারিয়া থানার কাঠেরপুল এলাকায় পৌঁছালে আসামিরা তার রিকশা আটকে দেন। তারা তার কাছে টাকা-পয়সা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। চুন্নু মিয়া আসামিদের পরিচিত মর্মে জানায়। একথা শোনার পর সজিব তাকে ছুরিকাঘাত করে।
পরে গেন্ডারিয়া থানা পুলিশ খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় চুন্নু মিয়ার শ্যালক মো. জাহাঙ্গীর পরদিন গেন্ডারিয়া থানায় ছিনতাইয়ের পর খুনের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।
২০১১ সালের ১৪ জুন আসামি সজিব, মামুন ও বাঘা বাবুর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন গেন্ডারিয়া থানার উপপরিদর্শক মনিরুজ্জামান। একই বছরের ৭ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
মামলার বিচার চলাকালে ১৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।