শিরোনাম

নেত্রকোণা, ৯ জুলাই ২০২৬ (বাসস): জেলা সদরে পাওনা টাকা ফেরত না দেওয়ায় জাকির হোসেন (১৭) নামে এক কিশোরকে নির্মমভাবে হত্যার পর লাশ গুম করার দায়ে মো. জনী (৩১) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
আজ দুপুরে নেত্রকোণার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোছা. মরিয়ম-মুন-মুঞ্জুরী জনাকীর্ণ আদালতে আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. জনী নেত্রকোণা সদর উপজেলার রাজুর বাজার এলাকার মো. বাবুল মিয়ার পুত্র।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর ভুক্তভোগী কিশোর জাকির হোসেন মদন উপজেলার হাসনপুর গ্রামে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়। পরদিন ১৬ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে সেখান থেকে বাড়ির দিকে রওনা হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজির পর ১৭ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে সদর উপজেলার রাজুর বাজার এলাকার জনৈক ইদ্রিসের ব্রয়লারের পেছনের বিলের পানিতে ভাসমান অবস্থায় জাকিরের লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। উদ্ধারের সময় নিহতের গলায় নাইলনের রশি প্যাঁচানো ছিল।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. মঞ্জু মিয়া বাদী হয়ে ১৮ অক্টোবর নেত্রকোণা মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর পুলিশি তদন্তে রাজুর বাজার এলাকার মো. জনীকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জনী স্বীকার করেন যে, তার কাছ থেকে ধার নেওয়া টাকা ফেরত না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে সে জাকিরকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং লাশ বিলে ফেলে দেয়।
তদন্ত শেষে পুলিশ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে ১০ জন সাক্ষীকে উপস্থাপন করে। সাক্ষ্যপ্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক আজ এই রায় প্রদান করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম এবং আসামিপক্ষে মামলা লড়েন অ্যাডভোকেট পূরবী কুণ্ডু।