বাসস
  ১৮ জুন ২০২৬, ১৯:২০

নারী-শিশু নির্যাতন : হাইকোর্টে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স শুনানির দৃষ্টান্ত 

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ১৮ জুন, ২০২৬ (বাসস) : নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাইকোর্টে শুনানির দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। 

বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন: সম্প্রতি দেশে নারী শিশু নির্যাতনের কয়েকটি নির্মম ঘটনার প্রেক্ষাপটে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুধুমাত্র নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল শুনানির জন্য একটি বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নির্দেশে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা’র সমন্বয়ে গত ১০ জুন এ বেঞ্চ গঠন করে দেন। এই বেঞ্চে ২০ টি মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য এসেছে। ইতোমধ্যে একটি মামলা শুনানি করে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

আছিয়া-রামিসা-নুসরাত হত্যা মামলা কার্যতালিকায়: ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলা ও মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলাসহ ২০ টি মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা’র সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে। এদিকে রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ১৬ জুন হাইকোর্টের এই বিশেষ বেঞ্চের কার্যতালিকায় এলে আদালত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স ল’ইয়ার) নিয়োগের নির্দেশ দেন। অন্যদিকে এই মামলার পেপারবুক প্রস্তুত হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী। 

অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে আইনজীবী টিম: নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশের ডেথ রেফারেন্স এবং আপিল শুনানির জন্য রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবীদের নিয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল বাসস'কে বলেন তার নেতৃত্বে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের এই টিম কোন মুলতবি আবেদন ছাড়াই নারী-শিশু নির্যাতন দমন সংক্রান্ত মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি করবে।

ডেথ রেফারেন্স: বিচারিক আদালত কোনো আসামীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কর্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। এই অনুমোদন শুনানির জন্য বিচারিক আদালতের রায়সহ মামলার যাবতীয় নথি হাইকোর্টে আসে। যা ডেথ রেফারেন্স বা মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি নামে পরিচিত। 

পেপারবুক: ডেথ রেফারেন্সের নথির সঙ্গে দণ্ডিত আসামী বা আসামীদের আপিল বা জেল আপিল একত্রে সাজিয়ে বাঁধাই করে পেপারবুক তৈরি করা হয়। এই পেপারবুক দিয়েই হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি করে নিষ্পত্তি করা হয়।

আপিল ও জেল আপিল: মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে দণ্ডিত আসামী নিয়মিত আপিল ও জেল আপিল করার সুযোগ পান। আইনজীবীর মাধ্যমে নিয়মিত আপিল করার বাইরে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দণ্ডিত আসামী জেল আপিল করতে পারেন।