বাসস
  ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১০

মামলাজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ এডিআর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উঠে আসছে বিআইএসি

\ মাহমুদুল হাসান রাজু \

ঢাকা, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : দেশের বিচারব্যবস্থায় ৪০ লাখেরও বেশি মামলা বিচারাধীন থাকায় আনুষ্ঠানিক আদালত ব্যবস্থার কার্যকর পরিপূরক হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতিকে ক্রমেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টার (বিআইএসি) প্রচলিত বিচারিক ব্যবস্থার বাইরে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির একটি শীর্ষ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে। প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়িক বিরোধ নিষ্পত্তিতে দ্রুততর, সুসংগঠিত ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত কাঠামো প্রদান করছে।

বিআইএসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে এ এম মজেদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার দূরদর্শী লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সালিশ, মধ্যস্থতা এবং অন্যান্য এডিআর পদ্ধতির প্রসারের মাধ্যমে বিআইএসি শুধু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষতার সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তিতে সহায়তা করছে না, বরং উপযুক্ত বাণিজ্যিক মামলাগুলোকে আনুষ্ঠানিক আদালত ব্যবস্থার বাইরে রেখে বিচার ব্যবস্থার ওপর চাপও কমাচ্ছে।’

অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত বিআইএসি ২০০৪ সালে সরকারের দেওয়া লাইসেন্সের আওতায় ২০১১ সালের এপ্রিলে কার্যক্রম শুরু করে। সময়ের সঙ্গে এটি বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে দেশের একমাত্র নিবন্ধিত প্রাতিষ্ঠানিক এডিআর সংস্থা হিসেবে বিকশিত হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব দেশের আনুষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থার ওপর বাড়তে থাকা চাপের প্রতিফলন। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান-এর সংসদে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিম্ন আদালতগুলোতে মোট ৪০ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪টি মামলা বিচারাধীন ছিল।

বিআইএসি সূত্রে বলা হয়েছে, এই বিপুল মামলাজট এমন কার্যকর বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে, যা উপযুক্ত মামলাগুলোকে আদালতে যাওয়ার আগেই নিষ্পত্তি করতে সক্ষম।

কে এ এম মাজেদুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য এমন একটি বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা প্রয়োজন, যা দেশি ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করবে। নিরপেক্ষ মামলা পরিচালনা, অভিজ্ঞ সালিশকারী ও মধ্যস্থতাকারী, আন্তর্জাতিক মানসম্মত বিধিমালা, দ্রুত নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া এবং ধারাবাহিক সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা সেই আস্থা তৈরিতে কাজ করছি।’

বিআইএসি’র সিনিয়র কাউন্সেল মোহাম্মদ আনিসুল হক ইমরানও বিশেষ করে জটিল বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিচারব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, চুক্তি, নির্মাণ, ব্যাংকিং ও অর্থায়ন, সরবরাহ ব্যবস্থা, কোম্পানি-সংক্রান্ত বিষয় এবং আন্তঃসীমান্ত লেনদেনের বিরোধগুলো সাধারণত প্রযুক্তিনির্ভর, নথিপত্রসমৃদ্ধ ও সময়সংবেদনশীল হয়ে থাকে।

তিনি আরও বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে গোপনীয়তা, বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও দ্রুততা প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি মামলা মোকদ্দমার পরিবর্তে যদি সালিশ বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে এসব বিরোধ নিষ্পত্তি হয়, তাহলে আনুষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থা ফৌজদারি, ভূমি, পারিবারিক ও সাংবিধানিক বিষয়ে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবে, যেগুলোতে প্রকৃত বিচারিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ায় বিআইএসি’র মতো এডিআর প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা গেলে বিচারপ্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি, মামলাজট হ্রাস এবং দেশের আইনি পরিবেশে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।