শিরোনাম

চট্টগ্রাম, ৮ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ শিল্প এলাকায় প্রায় ৫ দশমিক ২ একর সরকারি লিজের জমি প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি এবং অনুমতি ছাড়াই ব্যাংকে বন্ধক রাখার অভিযোগে চট্টগ্রাম সদরের সাবেক সাব-রেজিস্ট্রারসহ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আসামিরা হলেন, বি কে টেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হারুন অর রশিদ এবং চট্টগ্রাম সদর সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার মো. আবু তালিব খান।
দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপপরিচালক সুবেল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আজ রোববার চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
তিনি বলেন, মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার ১৯৫৭ সালে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ শিল্প এলাকার প্লট নম্বর ২৩৩, ২৩৩-এ, ২৩৪ ও ২৩৪-এ-এর মোট ৫ দশমিক ২০ একর জমি ৯৯ বছরের জন্য পাকিস্তান অক্সিজেন লিমিটেডের নামে লিজ দেয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি লিন্ডে বাংলাদেশ লিমিটেড নামে পরিচালিত হচ্ছে। লিজ চুক্তি অনুযায়ী, জমিতে শিল্প গ্যাস উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের কথা ছিল এবং সরকারের অনুমতি ছাড়া জমি বিক্রি বা বন্ধক দেওয়ার সুযোগ ছিল না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ অক্সিজেন লিমিটেড ২০০৫ সালে বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জমিটি বি কে টেক্স লিমিটেডের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে। তবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় হস্তান্তরের অনুমতি দিলেও তা বিক্রয়ের অনুমতি ছিল না। এরপরও ২০০৯ সালে ১২ কোটি ৫১ লাখ টাকায় সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে জমিটি বিক্রি করা হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ওই দলিল সংশোধনের জন্য একটি ঘোষণাপত্র দলিল সম্পাদন করা হয়। সেখানে বিক্রয় দলিলকে হস্তান্তর দলিল হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। তবে ওই ঘোষণাপত্রে পূর্বের দলিলদাতা প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রতিনিধি বা কর্মকর্তার স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।
সরকার থেকে লিজ নেওয়া জমি বিক্রির পাশাপাশি, আসামি মো. হারুন অর রশিদ সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ২০১০ সালে একই জমি ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের খাতুনগঞ্জ শাখায় তার অন্য প্রতিষ্ঠানের ঋণের বিপরীতে অতিরিক্ত কোলেটারাল হিসেবে বন্ধক রাখেন।
এছাড়া বর্তমানে জমিটি তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রির জন্য সমঝোতা স্মারক তৈরির চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।