বাসস
  ০৬ মার্চ ২০২৬, ১৯:৩৫

খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার : শাহীন আলমের দায় স্বীকার

ঢাকা, ৬ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : রাজধানীতে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার শাহীন আলম (২২) ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি দিয়েছে।

পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আজ শুক্রবার শাহীন আলমকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করে স্বেচ্ছায় আদালতে স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায়, তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

এর আগে রোববার (২ মার্চ) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভিকটিম ওবায়দুল্লাহ একটি প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে চাকরি করতেন। চাকরির সুবাদে ঢাকার মতিঝিলের কমলাপুর কবি জসীম উদ্দিন রোডের একটি চিলেকোঠায় দুই রুমের একটি মেসে শাহীন আলমসহ ভাড়া থাকতেন। শাহীন আলমের সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য ছিল। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাহীনের সাথে তার ঝগড়া হতো।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টা ৪৩ মিনিটের দিকে ছোট ভাই জলিলের সাথে ওবায়দুল্লাহর মোবাইল ফোনে কথা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীত পাশে কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি বিচ্ছিন্ন পা, বায়তুল মোকারম মসজিদের পূর্ব গেটের পাশে বিচ্ছিন্ন দুটি হাত এবং শাহজাহানপুর থানার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের পাশে আরেকটি বিচ্ছিন্ন পা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে পুলিশ বিচ্ছিন্ন হাত দুইটি উদ্ধার করে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের মাধ্যমে ওবায়দুল্লাহর পরিচয় শনাক্ত করে। এ ঘটনায় ওবায়দুল্লাহর বাবা হামিদ মিয়া রোববার মতিঝিল থানায় হত্যা মামলা করেন।