শিরোনাম

ঢাকা, ৩ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ এবং গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা প্রশ্নে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এই রুল জারি করেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম, সৈয়দ মামুন মাহবুব, গাজী কামরুল ইসলাম সজল ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়। একই বছরের ১৩ নভেম্বর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
এদিকে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত কতিপয় প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি রয়েছে কি না তা যাচাইয়ে ২৫ নভেম্বর গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের সঙ্গে সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবের বিষয়ে গণভোট গ্রহণ করা হয়। এই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয় বিএনপি। অন্যদিকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান-ই-খোদা হাইকোর্টে একটি রিট করেন।
অন্যদিকে, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্যের শপথের জন্য দেওয়া চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পরবর্তীতে আরেকটি রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী মো. মাহবুব আলম। দুটি রিটের শুনানি শেষে আজ রুল জারির আদেশ দেন হাইকোর্ট।